
সুসময়ে অবহেলিত পাঁচবিবি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক থানা বিএনপির সফল সভাপতি আব্দুর রব বুলু। এক সময় পাঁচবিবির বিএনপি মানেই ছিল আব্দুর রব বুলুর নাম। মাঠের রাজনীতি থেকে আন্দোলন সংগ্রাম, সবখানেই সামনে থাকা এই বীর মুক্তিযোদ্ধা নেতৃত্ব দিয়েছেন। আজ দলের সুদিনে সেই নেতাই অনেকটাই অবহেলিত ও উপেক্ষিত। নেতা-কর্মীদের আড্ডা, দলীয় সভা সমাবেশে তাকে আর আগের মতো দেখা যায় না। দলীয় গ্রুপিংয়ের কারনে আজ সে বিএনপি’র বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ও উপেক্ষিত।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌরসভার দমদমা গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুর রব বুলু। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর। ১৯৮২ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে যোগ দেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধেও তিনি বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব বুলুর রাজনৈতিক দীর্ঘ পথচলায় দেখা যায় (১৯৮২-১৯৮৫) সালে পাঁচবিবি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং (১৯৮৫-২০০০) সাল পর্যন্ত সফলতার সাথে একটানা ১৫ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সাল থেকে খালেদা-তারেক মুক্তি পরিষদ জেলার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সময়ে থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হতে দেয়নি। আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালে আবারও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের পদ লাভ করেন । একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হয়েছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা বিএনপি নেতা বুলু এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে পাঁচবিবিতে অসহযোগ আন্দোলন গড়ে তোলেন। এমনকি রেললাইন উপড়ে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা ছিল তার। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গঠন করেন খালেদা-তারেক মুক্তি পরিষদ।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ৩৯টি রাজনৈতিক মিথ্যা মামলার আসামি হন তিনি। এসব মামলায় তাকে ৮’বার কারাবরণ করতে হয়েছে। ২০১৬ সালে ৯ দিন গুমের শিকার হন। এই ৯’দিন তাকে চরমভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনে ১ ছেলে ও ২ মেয়ে সন্তানের জনক বিএনপি নেতা বুলু। তার সহধর্মিণী মরহুমা দৌলতন নাহার দোলন তিনিও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন জীবত দশায়। দোলন পাঁচবিবির সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ছিলেন। বড়ছেলে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ রাজিব হাসান রনি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। রনি বর্তমানে দিনাজপুরের বাংলাহিলি সি এন্ড এফ কাস্টমস অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন এবং আমদানি-রপ্তানি ব্যবসা করেন। রনি পাঁচবিবি সমীরণ নেসা মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব বুলুর পরিবারটা যেন বিএনপির একটি অবিচ্ছেদ অংশ। দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কয়েক বার নৃশংস হামলার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে হয়েছে তাকে।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী বলেন, “বুলু ভাই আমাদের সময় বিএনপির কান্ডারি ছিলেন। আন্দোলনে তিনিই থাকতেন সবার সামনে । আজ সুসময়ে তাকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।
সিনিয়র এই বিএনপি নেতা এখনো দলের জন্য কাজ করতে চান। কিন্তু দলীয় কোনো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তার স্থান নেই বললেই চলে। ত্যাগী এই নেতার প্রতি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সুদৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করেন দলের স্থানীয় নেতা কর্মীরা। তারা বলেন, আব্দুর রব বুলু এবং তার স্ত্রী মৃত দৌলতন নাহার বিএনপির জন্য কি করেনি। বিএনপি করার অপরাধে কত জেল খেটেছেন, মামলা খেয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিএনপি আজ ক্ষমতায় বিএনপির এই সুদিনে তার অবস্থান কোথায়? বীর মুক্তিযোদ্ধা পাঁচবিবি বিএনপি’র বাতিঘর আব্দুর রব বুলুর জন্য স্থানীয় নেতা কর্মীরা কেন্দ্রীয় বিএনপির হাই কমান্ডের সুদৃষ্টি কামনা করেন এবং বিএনপিতে তার মূল্যায়ন চান।
এ ব্যাপার বিএনপি নেতা বুলু বলেন, জীবনের শেষ সময়ে পৌঁছে গেছি। দলের জন্য অতীতে যেমন কাজ করেছি আমৃত্যু সেভাবেই কাজ করে যেতে চাই।
Leave a Reply