1. online@dbnews.live : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@dbnews.live : admin :
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ন

নেত্রকোনায় ধান সংগ্রহে অনিয়ম: গুদাম কর্মকর্তা বরখাস্ত, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বদলি

সোহেল খান দুর্জশ, নেত্রকোনাঃ-
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি খাদ্য গুদামের (এলএসডি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদফতর। কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন ও ধান সংগ্রহে অনিয়ম এবং একই ব্যক্তির কাছ থেকে একাধিকবার ধান সংগ্রহ করে বিল দেওয়ার অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। খাদ্য অধিদফতরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্র স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে গত ৩১ আগস্ট মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এদিকে, গত ৯ সেপ্টেম্বর খাদ্য অধিদফতরের উপসচিব মো. মাহাবুর রহমান শেখ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানকে বদলি করা হয়। তাকে ঢাকা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত সহকারী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এদিকে (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদ্য বদলিকৃত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের টেলিফোনিক নির্দেশনার পর নেত্রকোনার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিরিশিরি খাদ্য গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে ধান সংগ্রহে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। তদন্তে দেখা যায়, কৃষি বিভাগ থেকে পাওয়া আগ্রহী কৃষকদের তালিকা সঠিকভাবে প্রণয়ন করা হয়নি। তালিকায় কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় যাচাই কঠিন হয়ে পড়ে। একই নাম একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত করারও তথ্য পাওয়া যায়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কৃষি বিভাগের প্রত্যয়ন নিয়ে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের নিয়ম থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি। শুধু জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে এবং কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে কৃষক শনাক্ত না করেই ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী ইসলাম একটি সিন্ডিকেটের সহায়তায় ধান সংগ্রহ করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়।রেজিস্টার ও কৃষি বিভাগের তালিকা পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ নীতিমালা-২০১৭ লঙ্ঘন করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একই ব্যক্তির কাছ থেকে একাধিকবার ধান সংগ্রহ ও বিল পরিশোধ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে দুর্গাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের যথাযথ তদারকি ছিল না বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, মেহেদী ইসলামকে বরিশালের উজিরপুরে বদলির আদেশ দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত ও বিভাগীয় কার্যক্রম চলমান থাকায় তাকে চাকরিতে বহাল রাখা সমীচীন মনে করেনি কর্তৃপক্ষ। প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন বলেও জানানো হয়। চলতি বছর নেত্রকোনায় চাল কেলেঙ্কারির একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জেলার মদন উপজেলায় গত ১৪ মে রাতে পাচারের সময় ২০ টন চাল জব্দ করে প্রশাসন। এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও গুদাম কর্মকর্তাকে বরিশালে বদলি করা হয়। একই উপজেলায় গত ৪ সেপ্টেম্বর পাচারের সময় ৫ টন সরকারি চাল জব্দ হয়। দুটি ঘটনায়ই থানায় মামলা হয়েছে। এ ছাড়া গত বছরের ২১ জুন জেলার কেন্দুয়া উপজেলায় ১৩ হাজার ৫১৫ কেজি সরকারি চাল জব্দ করে সেনাবাহিনী। এ বিষয়ে জানতে বরখাস্ত হওয়া গুদাম কর্মকর্তা মেহেদী ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। বদলিকৃত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান বলেন, ধান সংগ্রহে অনিয়মের কারণেই গুদাম কর্মকর্তা মেহেদী ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে নিজের বদলিকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়মিত বদলিই মনে হচ্ছে। ওই ঘটনার সঙ্গে এই বদলির কোনো সম্পর্ক নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2019
Design By Raytahost