
সংসারের কাজ করতে গিয়ে সময় একটু বেশি লাগে। তবু স্বামী কখনো রাগ করেন না। কারণ বিয়ের আগেই আমার হাতের আঙ্গুলের এ অবস্থা সব জেনে-বুঝেই ঘরে তুলেছে। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মহিপুর গ্রামের গৃহবধূ মাসুমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, পৃথিবীতে একমাত্র স্বামীই আমার সবকিছু।
মাসুমা আক্তার বগুড়ার কাহালু উপজেলার উলট্ট গ্রামের মোঃ নুরুল ইসলামের মেয়ে। ২০১০’সালে পাঁচবিবির মহিপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল হাকিমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।জন্মগতভাবেই মাসুমার দুই হাতের আঙুলগুলো অস্বাভাবিক মোটা আর বড। ছোটবেলায় বাবা-মা ডাক্তার দেখিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর ১৫ বছর অতিক্রম হলেও টাকার অভাবে এখন পর্যন্ত ডাক্তারের কোনো চিকিৎসা করানো হয়নি। আগে তেমন ব্যথা ও থাকলেও এখন মাঝেমধ্যেই প্রচণ্ড ব্যথা ও যন্ত্রণা হয়। এসময় দু’হাতসহ পুরো শরীর ভারী ভারী লাগে চলাফেরা ও সংসারের কাজ কাম করতে খুব কষ্ট হয়। কিন্তু অন্য সময় সংসারের সব কাজকাম করতে পারি, তবে সময় একটু বেশি লাগে, বলেন মাসুমা।
মানবতার উদারতা দেখানো স্বামী আব্দুল হাকিম পেশায় একজন নর-সুন্দরের কাজ করেন। মানুষের চুল-দাড়ি কেটে ২ ছেলে-মেয়ের সংসার চালান। স্ত্রীর এই অবস্থার কথা জেনেও যিনি বিয়ে করেছেন এবং আজও পাশে আছেন। হাকিম বলেন, মানুষের চুল দাড়ি কামিয়ে যে আয় করি তা দিয়ে সংসারই ভালো মতো চলে না। বউকে বড় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব কিভাবে? টাকার অভাবে আজ পর্যন্ত ভালো কোনো ডাক্তার দেখাতে পারিনি।
স্থানীয়রা বলেন, বর্তমান সময়ে মাসুমার এমন পরিস্থিতি জেনেও বিয়ে করা এবং সংসার টিকিয়ে রাখা সত্যিই বিরল উদাহরণ।
স্থানীয় আটাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আ,স,ম সামছুল আরেফিন চৌধুরী আবু বলেন, (হাকিম-মাসুমা) আমার ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাদের অভাবের সংসার তার উপর মাসুমার হাতের আঙ্গুলের এ অবস্থা। তার সুচিকিৎসার জন্য পরিষদ ও ব্যাক্তিগত ভাবে সহযোগিতা করা হবে। তিনি আরো বলেন, সমাজের বিত্তবানদের সহানুভূতিই মাসুমার স্বাভাবিক জীবন ফিরে দিতে পারে।
মাসুমার ব্যথা বাড়ায় এখন চিকিৎসা জরুরি হয়ে পড়েছে কিন্তু সামর্থ্য নেই। তাই সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে সহানুভূতি ও সহযোগিতা চান আব্দুল হাকিম।
সহযোগিতা পাঠাতে হাকিমের ব্যক্তিগত
মোবাইল নম্বর=০১৮৫৩-৩৮৯৯৮৮ (বিকাশ)।
Leave a Reply