
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ভুয়া তথ্য ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে দুই রোহিঙ্গার বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুলসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পরপরই কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. মঞ্জুরুল মিয়া ও চাকরিচ্যুত কম্পিউটার অপারেটর কাঞ্চন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় গত রাতে থানায় মামলা হয়েছে। পরে আজ ভোরে ওই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে দুপুরে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এরআগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় মামলাটি করেন। মামলায় আসামিরা হলেন-উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রংছাতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল (৬৪), উপজেলা নির্বাচন অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. মঞ্জুরুল মিয়া (২৫), নির্বাচন অফিসের চাকরিচ্যুত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়া (২৯), আরিফ মিয়া (৩৪) ও স্ক্যানিং অপারেটর স্মরণ সরকার হীরা (৩০), উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের ওমর আলী (৪৯) এবং একই গ্রামের মোকসেদ আলী (৪৪)। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগের দিন বুধবার দুই রোহিঙ্গার এনআইডি তৈরির বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে জাল কাগজপত্র তৈরি করে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ও এনআইডি পেতে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাচন অফিসের কয়েকজন আউটসোর্সিং কর্মী এবং স্থানীয় কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও আনা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান গত ২ মার্চ বদলি হয়ে কলমাকান্দায় যোগ দেন। এর আগে কামরুল হাসান নামের এক ব্যক্তির ভোটার নিবন্ধন নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে গত ২৯ মার্চ ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তদন্তের নোটিশ দেওয়া হয়। পরে ৩১ মার্চ তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের ভিত্তিতে ২০ জুলাই কলমাকান্দা নির্বাচন অফিসের কয়েকজন আউটসোর্সিং কর্মীর বিরুদ্ধে জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে রোহিঙ্গাকে ভোটার তালিকাভুক্ত করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। ওই দিন প্রকল্পের আওতায় উপজেলা নির্বাচন অফিসে আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়া ও আরিফ মিয়া এবং স্ক্যানিং অপারেটর স্মরণ সরকার হীরাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নির্বাচন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই কয়েকজনের ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ নেওয়া এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন সার্ভারে তথ্য আপলোডের কাজ করেন। পরে ভোটার তালিকার তথ্য যাচাই করতে গিয়ে অসংগতি ধরা পড়ে। সরেজমিনে যাচাইয়েও মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে বলে দাবি করেন বাদী।
সর্বশেষ নূর হালিমা ও মুজিবুর রহমানের এনআইডি তৈরির ঘটনায় নির্বাচন অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৯ জুলাই সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট হওয়ার ঘটনাতেইং পরিচ্ছন্নতাকর্মী মঞ্জুরুলের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বাবাদী এ বিষয়ে রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমাদের ওয়েবসাইটে ওই দুজনের তথ্য নেই। বাইরে থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন করে নিয়েছে তারা। যেভাবে সামনে আসে ঘটনা। এর আগে গত বুধবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের বাসিন্দা দেখিয়ে নূর হালিমা (২৫) ও মুজিবুর রহমান নামে দুই রোহিঙ্গার এনআইডি তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে নূর হালিমার এনআইডি গত ১১ আগস্ট হস্তান্তর করা হয়। মুজিবুর রহমানের এনআইডির তথ্য নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে আপলোড করা হলেও বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সেটি হস্তান্তর করা হয়নি। বিষয়টি জানতে সরেজমিন অনুসন্ধানে উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামে গেলে ওমর আলী জানান, নূর হালিমা নামে তার কোন মেয়ে নেই। সংবাদ প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ে। এর পরদিনই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা থানায় মামলা করেন।
Leave a Reply