1. online@dbnews.live : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@dbnews.live : admin :
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১৭ অপরাহ্ন

গৃহবধূকে মরিচ ছিটিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়ঃ-
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৬ বার পঠিত

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক গৃহবধূর শয়নকক্ষে ঢুকে কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম (৩৯) নামে এক নারী বর্বরোচিত নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ওই গৃহবধূর দাঁত ভেঙে দেওয়া, ব্লেড দিয়ে মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়। বাংলাসংবাদ

বুধবার (১২ আগস্ট) দিবা রাতে দেবীগঞ্জ থানায় ভুক্তভোগীর একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে সোহেল রানা, সাহেল খাতুন ও সমসের আলীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

এসময় উপজেলার চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০), সাহেল খাতুন (৪০), সমসের আলী (২৮), আবুল হক (৫০) ও সুজন ইসলাম (১৯) এর নাম উল্লেখ করে ৬ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ভুক্তভোগী কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম গত ১২ জুন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে কুলসুম বেগম নাম ধারণ করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর দারগালী নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে একই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ে মেনে নিতে না পেরে ঘটনার দিন সোমবার রাতে অভিযুক্ত আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি ও লোহার রড নিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। প্রথমে গালিগালাজ করে কুলসুমের কাছ থেকে তার ধর্মান্তরিত হওয়া ও বিবাহের হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং তার ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে অভিযুক্ত রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে কুলসুমের মুখে আঘাত করলে তার পাটির একটি দাঁত ভেঙে যায়। নির্যাতন চলাকালে সোহেল রানা ব্লেড দিয়ে ওই নারীর মাথার অর্ধেক চুল কেটে দেয়। এবং কুলসুমের হাত-পা চেপে ধরে রাকিব ইসলাম যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। যন্ত্রণায় ওই নারী চিৎকার করতে থাকলে তার স্বামী বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়।

একই সাথে হামলাকারীরা ঘরে থাকা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করে। একই সাঙ্গে নগদ ৮৫ হাজার টাকা এবং ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ১১ মণ বাদাম চুরি করে নিয়ে যায়। একই সাঙ্গে ৩টি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কুলসুমের স্বাক্ষর নেয়। পরে ভুক্তভোগী ও তার স্বামীর চিৎকার শুনে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় কুলসুম বেগমকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করে দেবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

দেবীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার প্রভাস চন্দ্র রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ৩ আসামিকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সাঙ্গে পলাতক অন্য অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2019
Design By Raytahost