1. online@dbnews.live : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@dbnews.live : admin :
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ন

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করায় স্ত্রীর ১০দিনের কারাদণ্ড

আদালত ডেস্কঃ-
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৭ বার পঠিত

স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা যৌতুকের অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়ায় উল্টো বাদী স্ত্রীকেই কারাদণ্ড দিয়েছেন মানিকগঞ্জের আদালত। মিথ্যা মামলা করার অভিযোগে মোসা. লাভলী আক্তারকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় তার স্বামী মো. আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে বাদী ও আসামির উপস্থিতিতে মানিকগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ নম্বর আদালতের বিচারক দোলন বিশ্বাস এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর লাভলী আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি আরিফুল ইসলাম রতনের সঙ্গে লাভলী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ১৫ মার্চ স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুকের অভিযোগ এনে মামলা করেন লাভলী।

মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, রতন তার কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন এবং টাকা না দেওয়ায় তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ ঘটনায় যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় সিংগাইর থানা আমলি আদালতে মামলা করা হয়।

মামলায় বাদীসহ মোট তিনজন সাক্ষ্য দেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরার সময় মামলার অভিযোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি সামনে আসে। আদালতে প্রমাণিত হয়, মামলায় যে ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার প্রায় সাত মাস আগেই অভিযুক্ত রতন প্রবাসে চলে গিয়েছিলেন।

এ কারণে বাদীপক্ষের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত রতনকে বেকসুর খালাস দেন। পাশাপাশি মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে মামলার বাদী লাভলী আক্তারকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. আজিজ উল্লাহ। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন কহিনুর।
রায়ের পর লাভলী আক্তারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সমাপ্তি আক্তার জানান, সাজা হওয়ায় আপিলের প্রস্তুতি হিসেবে জামিনের আবেদন করা হয়। পরে আদালত মানবিক দিক বিবেচনা করে এক মাসের মধ্যে আপিল করার শর্তে এক হাজার টাকা বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, মিথ্যা মামলা করে কাউকে হয়রানি করার প্রবণতা কমাতে এ ধরনের রায় গুরুত্বপূর্ণ। সাজা কম হলেও এর মাধ্যমে একটি স্পষ্ট বার্তা যায়—মিথ্যা মামলা দায়ের করে কাউকে হয়রানি করলে মামলার বাদীকেও আইনের আওতায় এসে শাস্তির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

তার মতে, এমন দৃষ্টান্ত তৈরি হলে ভিত্তিহীন মামলা দায়েরের প্রবণতা কমার পাশাপাশি আইনের অপব্যবহার ঠেকাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2019
Design By Raytahost