1. online@dbnews.live : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@dbnews.live : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ন

‘আমার ছেলে-মেয়ে যেন আমার লাশ না ছোঁয়’, বাবা দিবসে এক হতভাগ্য বাবার আর্তনাদ

ডিবি নিউজ ডেস্কঃ-
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ৩৯ বার পঠিত

আমি মন থেকে, দিল থেকে তাদের অভিশাপ দিই—আমার মতো একদিন যেন তারাও এই জায়গায় (বৃদ্ধাশ্রমে) আসে।’ বাবা দিবসে কেঁদে কেঁদে এই কথাগুলো বলছিলেন একজন বৃদ্ধ বাবা। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রমে টাকা উপার্জন করে যে সন্তানদের নিজের হাতে বড় করেছেন, অভাব বুঝতে দেননি কোনো দিন—সেই সন্তানরাই এখন তাকে ফেলে গেছে বৃদ্ধাশ্রমে। ফেলে যাওয়ার পর এক দিনও কেউ এসে নেয়নি খোঁজখবর।

রবিবার (২১ জুন) সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদনে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।

চার দেয়ালে ঘেরা বৃদ্ধাশ্রমে বসে তিনি বলছিলেন, ‘এদের (সন্তানদের) সোনার চামিচে করে দুধ খাওয়াইছি। আমার ভাবিরা কইত, এত বেশি ভালোবাইসো না, তোমারে এরা জীবনে বহুত কষ্ট দেবব। আজ তাদের সেই কথাটা আমি অক্ষরে অক্ষরে পাইছি।

‘আচ্ছা, বুঝলাম ছেলেরা এমন হইতে পারে না। এইটা মানি নিলাম। কিন্তু মেয়েরা কেমনে এমন হয়? মেয়েরা কেমনে বাপকে এত অস্বীকার করে? আমার জীবনে এমন এই প্রথম দেখলাম।’

তিনি সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনাদের কাছে এবং আইনের কাছে আমি একটা ডায়েরি দিয়ে যাব। এই ডায়েরিটা আপনারা থানায় পৌঁছাইয়া দেবেন।

এই ডায়েরিতে আমার সব কিছু লেখা আছে—তারা আমার সঙ্গে কী করছে। আমার শুধু একটাই অনুরোধ থাকবে, আপনারা এই জিনিসটা মানুষকে দেখাইবেন। আমার ছবিটা দেখাইবেন। ছেলে-মেয়ে যেন দেখতে পায় যে তার বাপ কী অবস্থায় আছে।’

‘এই টাকা-পয়সাটাই হলো আমার জীবনের কাল। ওনাদের ঘাড়ের ওপর (বৃদ্ধাশ্রমে) আমারে উঠাই দিয়ে গেছে। আজ পর্যন্ত দেখতে আসে নাই। খোঁজটাও নেয় না—দেখা তো দূরের কথা। এইটা কী ধরনের ছেলে? এরা অশিক্ষিত হইলেও এককথা। আমার মেয়েও কি অশিক্ষিত—যে মেয়েরে আমি পুতুলের মতো রাখছি? আমি কি তাদের কাছে টাকা-পয়সা চাইছি? কিচ্ছু চাইনি, একটু ভালোবাসা চাইছি। যাইহোক, এইটা আমার ভাগ্যে আছে।’

নিজে একজন রেমিট্যান্সযোদ্ধা বর্ণনা দিয়ে বৃদ্ধ বাবা বলেন, ‘আমার জীবনে আমি বহুত বিদেশ করছি, বহুত টাকা কামাইছি, বহুত টাকা খরচও করছি। দুই দেশে ছিলাম। আমি ১৯৯৫ থেকে সৌদি আরবে ছিলাম ২০১৬ সাল পর্যন্ত। যখন বস্তা ভরি ভরি টাকা দিছিলাম, তখন সব ঠিক আছিল। ছেলে ঠিক আছিল, মেয়ে ঠিক আছিল—সব ঠিক আছিল।’

‘আমার একটা এফডি (ফিক্সড ডিপোজিট) আছিল। আমার ছোট ছেলেটা আমেরিকান এম্বাসিতে চাকরি করে। এ ছিল চোখের মণি। আমি সাদা দিলে আমার ছেলে আমার টাকা পাইবে না কে পাইবে, এরে করে দিছি। টাকাগুলা উঠাই নিয়ে যে গেছে, আজ পর্যন্ত সে আমার সাথে কোনো যোগাযোগ করে না, কোনো যোগাযোগ নাই। আমার মেয়ের কাছে আমার টাকা ছিল ২০ লাখ টাকা। এই টাকাটা আমাকে আর দেয় নাই। আজ পর্যন্ত ফেরত দেয় নাই।’

‘এখন আমি আপনাদের কাছে এবং আইনের কাছে একটা ডায়েরি দিয়ে যাব। এ ডায়েরিটা আপনারা থানায় পৌঁছায় দেবেন। আপনাদের দায়িত্ব এটা। এই ডায়েরিতে আমার সব কিছু লেখা আছে—তারা আমার সাথে কী করছে।’

‘যেই কয় দিন বাঁচি থাকি, এই আমি এইখানে (বৃদ্ধাশ্রমে) থাকমু। আমার ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন কাউকেই যেন আমার লাশ ছুঁইতে না দেয়। ছোঁয়ার কারো কোনো অধিকার নেই। একমাত্র এইখানের মানুষেরই আছে—আমার লাশ ছোঁয়ার অধিকার।’

‘আমার সন্তানদের আমি এইটাই বলব যে আমার সাথে তোমরা যারা যা করছো, এইটার ফল তোমরা পাইবা। আমি দিল থেকে বলি রাখছি—এইটার ফল আল্লাহ তাআলা তোমাগোরে দেবেন—একদিন না একদিন দেবেন। এইটার ফল তোমরা ভোগ করতে পারবা। আমারে তো উনারা (বৃদ্ধাশ্রম) জায়গা দিছে, চাইট্টা খাবার দিছে, খাকার জায়গা দিছে—এদের (সন্তানদের) আল্লাহ যেন এটাও না দেয়। বিশেষ করে আমার মেয়েকে যেন না দেয়।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2019
Design By Raytahost