1. online@dbnews.live : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@dbnews.live : admin :
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৪ অপরাহ্ন

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নেত্রকোনা থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে নারিকেল ও সুপারী গাছ

সোহেল খান দুর্জশ, নেত্রকোনাঃ-
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত

প্রচণ্ড খরা, অনাবৃষ্টি ও জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে নেত্রকোনা অঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে নারিকেল ও সুপারী গাছের বাদা (ফলের দানা)। বাড়ির আঙ্গিনায়, উঠানের ধারে, জমির আইলে সারিবদ্ধ নারিকেল গাছ সৌন্দর্যের যেমন শোভা পেত তেমনই দিত সুস্বাদু ফল। কিন্তু কালের বিবর্তনে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব ও ফারাক্কার মরণবাঁধে নেত্রকোনা জেলা শহরসহ আশে পাশে এলাকায় অতিরিক্ত খরা ও পানি শূন্যতায় বিলুপ্ত হতে বসেছে এই নারিকেল ও সুপারী গাছ। সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, নারিকেল অতিব সুস্বাদু ফল, সুপারী নেত্রকোনায় গ্রাম-বাংলার অতিথি আপ্যায়নে অতি সাধারণ একটি নিয়ম ছিল। গ্রাম অঞ্চলে একজনের বাড়িতে আরেক প্রতিবেশী আসলে তাকে পান-সুপারী দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। কিন্তু যেভাবে সুপারীর দাম দিন দিন বেড়ে চলেছে তাতে গ্রাম-বাংলার সাধারণ মানুষ আর পান-সুপারী কিনে খাওয়া সম্ভব হবে না। নেত্রকোনা পৌর শহরের মাছুয়া বাজারে গিয়ে পান-সুপারীর দোকানে দেখা গেছে, ১টি সুপারী দাম হাকা হচ্ছে ১০ টাকা। ১ টি সুপারী কেটে ৫ বার পান খাওয়া যায় একজন লোকের তাহলে মধ্যবৃত্তরা কিভাবে পান-সুপারী খাবে। অপর দিকে ডাব পুষ্ট হয়ে নারিকেলে পরিণত হয়। ডাবে প্রচুর পরিমাণ পটাসিয়ামসহ ঔষধি গুণ রয়েছে। তৃষ্ণা মিটাতে ডাবের বিকল্প আর কিছুই নেই। সব মিলে নেত্রকোনায় ডাব-নারিকেলের বিশেষ কদর। বিগত দশকে নারিকেল গাছগুলো সবল থেকে বেশি ফল দিত। বর্তমানে জলবায়ুর পরিবর্তনে গাছগুলো ক্রমান্বয়ে ক্ষীণ ও দুর্বল হয়ে পড়ছে। গাছগুলোর দুর্বলতার কারণে ফল ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। পূর্বে নারিকেল ও সুপারী গাছে বার মাসই ডাব-নারিকেল, সুপারী পাওয়া যেত। বর্তমানে বর্ষা মৌসুম ছাড়া তেমনটি ডাব চোখে মিলে না। আগের দিনে প্রতিটি এলাকায় সারিবদ্ধভাবে নারিকেল ও সুপারী গাছ লাগানো ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে গাছ মরে যাবার প্রবণতায় সারিবদ্দ নারিকেল ও সুপারী বাগান আর তেমন নেই। দু’ একটি বাগান থাকলেও তাতে জলবায়ুর প্রভাবে গাছগুলো ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।

এই কারণে নেত্রকোনায় প্রতিটি এলাকায় অতিরিক্ত খরা ও অনাবৃষ্টির প্রভাব পড়ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন ও ফারাক্কা বাঁধের কারণে জেলার প্রতিটি এলাকার নদ-নদীতে তেমন পানি থাকছে না। গত কয়েক বছর ধরে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে কমতে গত দু’বছর থেকে প্রায় তেমন কোনো বৃষ্টি নেই বললেই চলে। নেত্রকোনা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে,জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই সমস্যা হচ্ছে। এবার দেশের অন্যান্য এলাকায় বৃষ্টি বন্যা হলেও এই এলাকায় আষাঢ়ের শেষে ভাদ্র মাসেও তেমন বৃষ্টি মিলেনি। সেচ পাম্প দিয়ে ফসলী জমিতে অনেকেই পানি দিয়েছে। কিন্তু তেমন কোনো সুযোগ ছিল না বাড়ির আঙ্গিনায় কিংবা বাড়ির পতিত জমিতে সেচ ব্যবস্থার। এতে করে বৃষ্টির অভাব অতিরিক্ত খরা ও পানি শূন্যতায় বেশিরভাগ নারিকেল ও সুপারী গাছগুলো শুকিয়ে মারা গেছে। এই এলাকায় কোনো সময় নারিকেল গাছ বর্ষায় কিছুটা তরতাজা হলেও পরপর পানির অভাবে গাছগুলো নুয়ে পড়েছে। নারিকেল ও সুপারী গাছ অতিরিক্ত খরায় রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। শীতের সময় ঘনকুয়াশা আর গ্রীষ্মের খরায় নারিকেল ও সুপারী গাছ রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে নেত্রকোনা শহরের সুপারী ও নারিকেল এবং ডাব বিক্রেতা কপিল উদ্দিন জানান, এক সময় গ্রামে সারিবদ্ধ নারিকেল ও সুপারী গাছ ছিল। তাতে প্রচুর সুপারী এবং ডাব ও নারিকেল পাওয়া যেত। গত কয়েক বছর ধরে অতিরিক্ত খরায় গাছগুলো শুকিয়ে মারা যেতে শুরু করে। আর যেগুলো এখন রয়েছে তা ক্ষীণ তাতে ডাব ও সুপারী তেমন ধরে না, ধরলেও তা ফল হয়ার আগেই ঝরে পড়ে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, ‘৫ বছর আগেও সুপারী বিক্রি করে বাজার সদাই করে চলতাম। কিন্ত এখন আমি নিজেই নারকেল, সুপারী কিনে খাই। ১ গা (১০টা) সুপারী দাম অহন বাজারে ১শ’ টাহা। আমরা কিভাবে বাপ-দাদার পুরানা অভ্যাস বদলামু।’
কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতী ইউনিয়নের পাঁচগাও গ্রামের আজাহার উদ্দিন জানান, ‘আগে খাল, বিল ও নদীতে প্রচুর পানি থাকত আবহাওয়া নরম ছিল। বর্তমানে অতিরিক্ত খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে নারিকেল ও সুপারী গাছ নীচ থেকে পানি টানতে পারছে না। এতে করে আমাদের এলাকায় নারিকেল ও সুপারী গাছ লাগানোর আগ্রহ হ্রাস পেয়েছে।নেত্রকোনা শহরের ’নারিকেল ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন জানান, অতিরিক্ত খরায় এলাকা মরুভূমিতে রূপ নিয়েছে। বিগত দীর্ঘদিনের খরা ও অনাবৃষ্টিতে নারিকেল গাছগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে এবারে তুলনামূলক বানবর্ষা না হলেও কয়েকবার বৃষ্টিতে গাছগুলোর চেহারার পরিবর্তনসহ ডাবের কড়ি, সুপারীর বাদা দেখা দিয়েছে। কিন্তু ইদুরের উৎপাতে সেগুলো থাকবে না। নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোঃ আমিরুল ইসলাম জানান, জলবায়ুর পরিবর্তন এর ফলে সুপারী ও নারিকেল গাছে থাকে না। এর প্রভাব পড়েছে বর্তমান বাজারে। টাকা দিয়াও বাজারে আগের মতো তেমন নারিকেল ও সুপারী পাওয়া যাচ্ছে না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2019
Design By Raytahost