
স্কুলের বেঞ্চে যাদের হাতেখড়ি একসাথে, পথচলা একসাথে, আজ তারাই দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেছেন। সততা, নিষ্ঠা আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে গড়া বন্ধুত্বের উদাহরণ হয়ে আছেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মোঃ এমদাদুল হক ও নাজমুস সাদাত (নাজমুল)।
উপজেলার বাগজানা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এবং কোকতাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন এই দুই বন্ধু। ৮৮’সালে বাগজানা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকেই তারা একসাথে এসএসসি পাস করেন। ছোটবেলা থেকেই ক্লাসের মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন তারা। সহপাঠীরা এখনও বলেন, “আমরা প্রায় পড়াশোনার জন্য তাদের সহযোগিতা নিতাম। তারা সদা হাস্যোজ্জ্বল ও সাদা মনের মানুষ।”
পড়ালেখা শেষ করে এমদাদুল হক প্রথমে জয়পুরহাটের একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। পরে শেকড়ের টানে ফিরে নিজ এলাকা বাগজানা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অন্যদিকে নাজমুস সাদাত কোকতাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি তিলে তিলে গড়ার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটি গড়তে দীর্ঘদিন ধরে নাজমুলসহ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-কর্মচারীকে বিনা বেতনেই পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হয়েছে। প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এই সংগ্রামকে এলাকাবাসী শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। এখন সবাই বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।
দায়িত্ব ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হলেও দুই বন্ধুর সখ্যতা এতটুকুও কমেনি। সরকারি অফিস-আদালত থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষা বিষয়ক কাজে এখনও তাদের একসাথে চলাফেরা করতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা মনে করেন, এমদাদুল ও নাজমুলের মতো শিক্ষকরাই একটি এলাকার শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রকৃত কারিগর। বন্ধুত্বকে পেশাগত দায়িত্বের সাথে মিলিয়ে তারা যে নজির স্থাপন করেছেন তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা। দু’বন্ধু বলেন, মৃত্যুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত যেন আমরা এক সাথে চলতে পারি সেই দোয়াই করবেন সবাই।
Leave a Reply