1. online@dbnews.live : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@dbnews.live : admin :
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন

প্রকল্প বিশ্বব্যাংকের, মসজিদ মাইকে ঘোষণা দিয়ে নেওয়া হলো চাঁদা

ডিবি নিউজ ডেস্কঃ-
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
  • ২০ বার পঠিত

ঢাকার সাভারের জামসিং জয়পাড়া এলাকায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান একটি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, পৌরসভার প্রকৌশলীদের টাকা দেওয়ার কথা বলে শতাধিক পরিবারের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা এবং টাকা ফেরতের দাবি তুলেছেন।

সাভার পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, কোভিড-১৯ প্রতিক্রিয়া ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (এলজিসিআরআরপি) আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে জয়পাড়া মহল্লায় দুটি উন্নয়নকাজ চলছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৬০ হাজার ৭০০ টাকা ব্যয়ে ৮০০ মিটার ইউনিব্লক সড়ক এবং ৬৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪০ টাকা ব্যয়ে ৩৫০ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও এলাকার কিছু ব্যক্তি প্রচার করেন, পৌরসভার প্রকৌশলীদের অতিরিক্ত টাকা না দিলে ড্রেন নির্মাণকাজ হবে না। এজন্য জয়পাড়া মহল্লার বাইতুল মামুর কেরামাতীয়া জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়।

তবে প্রকল্পটি শতভাগ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং এজন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনও অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই—এ তথ্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপর টাকা দেওয়া ব্যক্তিরা তাদের অর্থ ফেরত দাবি করতে শুরু করেন।

এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, মসজিদের সেক্রেটারি খন্দকার ফরহাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ হাজি মো. শামসুদ্দিন, তার ছেলে মোহাম্মদ হাসান প্রিন্স এবং স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন ও মাসুমসহ কয়েকজন মিলে অর্থ সংগ্রহ করেন। তাদের দাবি, বাড়ির অবস্থান ও সামর্থ্য অনুযায়ী ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এভাবে কয়েক লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

মসজিদের ইমাম নাজির আহমেদ বলেন, ‘হাজি মো. শামসুদ্দিন ও খন্দকার ফরহাদ হোসেন আমাকে মাইকিং করতে বলেছিলেন। পরে আমি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়েছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল, টাকা না দিলে বাড়ির সামনে ড্রেন হবে না। সরল বিশ্বাসে ধারদেনা করে টাকা দিয়েছি। এখন জানতে পারছি, প্রকল্পটি পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে হচ্ছে। আল্লাহর ঘর মসজিদের মাইক ব্যবহার করে এভাবে আমাদের সাথে প্রতারণা করা হবে তা ভাবতেও পারিনি। আমরা এর বিচার ও টাকা ফেরত চাই।’

আরেক বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘রাস্তাঘাট ও ড্রেনের জন্য খরচ লাগবে বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। আমি নিজেও ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। বাড়ির সামনে দিয়ে ড্রেন নিতে হলে টাকা লাগবে—এই বলে এলাকার হাজী শামসুদ্দিনসহ অনেকেই টাকা তুলেছেন।’

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, গৃহবধূ মুন্নি আক্তার ২০ হাজার টাকা, আকলিমা আক্তার ৩০ হাজার টাকা, স্কুলশিক্ষিকা নাসিমা আক্তার ২৫ হাজার টাকা এবং আব্দুল আলী ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বাড়ির সামনে ড্রেন নির্মাণের কথা বলে এসব টাকা নেওয়া হয়েছে।

তারা বলছেন, তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে সরকারিভাবে রাস্তা হবে কিন্তু ড্রেন হবে না—ড্রেন করতে হলে পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। এখন জানা যাচ্ছে, প্রকল্পটি পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা কোথায় গেছে।

রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের তদারকির দায়িত্বে থাকা সাভার পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) তৌফিক ইমাম রূপক বলেন, ‘জয়পাড়া মহল্লার সালাউদ্দিনের বাড়ির কাছ থেকে মানিক মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ৮০০ মিটার সড়ক নির্মাণ করছে সোয়েব কনস্ট্রাকশন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর হানিফ মিয়ার বাড়ি থেকে রাসেলের বাড়ি পর্যন্ত ৩৫০ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণের কাজ করছে ইমরান বিল্ডার্স।’

তিনি জানান, পুরো প্রকল্প বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে হচ্ছে। ড্রেন নির্মাণের কথা বলে এলাকার কিছু লোকজন বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে টাকা তুলেছে—এ বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এলাকাবাসী থেকে টাকা তুলে কাজ করার কোনও সুযোগ নেই, যারা টাকা তুলেছে তারা অপরাধ করেছে।

সাভার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ আলম মিয়া বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের কাজে কোনও নাগরিক বা স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। প্রকৌশলীদের নাম ভাঙিয়ে যারা টাকা তুলেছে, তারা অপরাধ করেছে। পৌরসভা এই অনিয়মের দায় নেবে না।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত খন্দকার ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি কোনও জবাব দেননি। আর হাজি মো. শামসুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে শামসুদ্দীনের ছেলে মোহাম্মদ হাসান প্রিন্স ও জসিম উদ্দিন টাকা তোলার কথা স্বীকার করে বলেন, ড্রেন করার জন্য টাকা তুলেছেন তারা। তাদের দাবি, টাকা পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার অফিসে দেওয়ার পরই ড্রেনের কাজ হচ্ছে। তবে কার কাছে টাকা দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে তারা কিছু বলতে পারেননি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা কোনো উত্তর না দিয়ে দ্রুত সরে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আজাদ বলেন, ‘এলাকার মানুষ সরল-সোজা। তাদের ভুল তথ্য দিয়ে টাকা নেওয়া হয়েছে। অনেকেই জানতেন না যে রাস্তা ও ড্রেনের কাজ সরকারি অর্থায়নে হচ্ছে।’

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকাবাসীর কাছ থেকে টাকা তুলে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের কথা বলে একটি প্রতারক চক্র কার্যক্রম চালিয়েছে। তারা বলেছে রাস্তা হবে আরসিসি, কিন্তু বাস্তবে হচ্ছে ইউনিব্লক সড়ক। ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2019
Design By Raytahost