1. online@dbnews.live : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@dbnews.live : admin :
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৮:০৬ অপরাহ্ন

প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, যুবলীগ নেতা আটক

জুবায়ের খন্দকার, ষ্টাফ রিপোর্টারঃ-
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
  • ৩৮ বার পঠিত

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা তাকে হাতেনাতে ধরে রশি দিয়ে বেঁধে গণধোলাই দেয়।

সোমবার (২২ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব কাউয়ারচর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।

আটককৃত যুবলীগ নেতার নাম জাকির হোসেন। তিনি দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের তেকানি-বাগের হাট এলাকার বাসিন্দা এবং ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য। একই সঙ্গে তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার গভীর রাতে পূর্ব কাউয়ারচর এলাকায় ওই প্রবাসীর বসতবাড়ির টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে ঢোকেন জাকির হোসেন। এরপর দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় ওই নারীর চিৎকারে বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে জাকির মেম্বারকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে তাকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। সকালে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

ভুক্তভোগী ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, জাকির মেম্বার দীর্ঘদিন ধরেই আমাকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। গত রাতে তিনি জোরপূর্বক আমার ঘরের বেড়া ভেঙে ভেতরে ঢোকেন এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। আমি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন আমাকে রক্ষা করে এবং তাকে আটকে রাখে। তার বিরুদ্ধে খুন ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি আমাকে মেরে ফেলারও চেষ্টা করেছিলেন। আমি এই লম্পটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বলেন, ওই নারীর স্বামী আমাকে নিয়ে কিছু একটা বলেছিলেন। সেই বিষয়ে কথা বলার জন্য রাতে তারা আমাকে ডেকে নিয়েছিলেন। পরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাকে আটকে মারধর করা হয়েছে এবং পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ওই নারীর সঙ্গে আমার কোনো (অনৈতিক) সম্পর্ক নেই।

দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, নারীঘটিত অপরাধের জেরে ইউপি সদস্য জাকির হোসেনকে পুলিশ নিয়ে গেছে বলে শুনেছি। তার বিরুদ্ধে এখনো লিখিত মামলা হয়নি। মামলা হলে প্রতিবেদন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। এর আগেও তার খুন ও মাদকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রৌমারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রাসেল কবির বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর জনতার হাতে আটক হওয়া ওই ইউপি সদস্যকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2019
Design By Raytahost