
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রিফাত আহমেদকে (২৮) গুলি করে হত্যার পর লাশ সঙ্গে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে তার আর সন্ধান পাননি পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনার দুইদিন পর মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে করিমপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের কান্দাপাড়া জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
নিহত রিফাত আহমেদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার ছলিমগঞ্জ ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি বড়বাড়ির মোস্তাক আহমেদের ছেলে। তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজে কাজ করতেন।
নৌ পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় লোকজন নদীর তীরের একটি ঝোপে লাশ পড়ে থাকতে দেখে খবর দেয় নৌ ফাঁড়ির পুলিশকে। তারা লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশটি নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ। নিহতের শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এদিকে লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে রাতেই নিহতের বোন মুক্তা বেগম সদর হাসপাতালে এসে লাশ শনাক্ত করে।
নিহতের বোন মুক্তা বেগম বলেন, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আমার ভাই রিফাত দীর্ঘদিন যাবত নিজ এলাকায় আসতে পারছিল না। আমাদের এক আত্মীয় অসুস্থ থাকায় রোববার (১৪ জুন) রাতে গোপনে বাড়ি আসে। পরে আবার ফিরে যাওয়ার সময় খবর পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন আমার ভাইয়ের পিছু নেয়। এ সময় আমার ভাই পার্শ্ববর্তী নিলক্ষি দাসপাড়া গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নিলে ডাকাত সরদার মনাক, তার ছেলে সুমন ও রোমানের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল হানা দেয়।
এ সময় ডাকাত সরদার মনাক, তার দুই ছেলেসহ অন্যান্য সদস্যরা বাইরে থেকে ঘরের চার পাশ থেকে শত শত রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এ ঘটনায় আমার ভাই ঘরের ভেতরে গুলিবিদ্ধ হলে তারা টেনে-হিঁচড়ে তাদের সঙ্গে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তারা আমার ভাইকে গুলি ও গলা কেটে হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলার উদ্দেশে নদী পথে নরসিংদী এলাকায় ফেলে যায়। আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার ফরিদা গুলসানারা কবীর কলেন, লাশে পচন ধরে গেছে, তবে নিহতের শরীরে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার জানান, করিমপুরে উদ্ধার হওয়া লাশটি রিফাত নামের এক তরুণের। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে হত্যার পর তার লাশ কে বা কারা করিমপুরে নদীর পাড়ে ফেলে যায়। পরিবারের লোকজন এসেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
Leave a Reply