1. online@dbnews.live : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@dbnews.live : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০২:০১ পূর্বাহ্ন

মরিয়ম জীবিত আছে’ এমন স্বপ্ন দেখে ১৮ দিন পর কবর খুঁড়ে দেখলেন স্বজনরা

ডিবি নিউজ ডেস্কঃ-
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬
  • ২৩ বার পঠিত

মৃত মেয়ে ‘কবরের মধ্যে জীবিত’ আছে এমন স্বপ্ন দেখে দাফনের ১৮ দিন পর কবর খুঁড়ে দেখলেন স্বজনরা। পরিবারের এমন কান্ডে এলাবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকালে সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর রমেশ গ্রামের হোসেন লাহারি বাড়িতে নিহত মরিয়মের কবরে এ ঘটনা ঘটে।

মরিয়ম (২০) লাহারি বাড়ির বাসিন্দা দিনমজুর খলিল লাহারি ও তাসনুর বেগম দম্পত্তির মেয়ে। তাদের ৭ ছেলে-মেয়ের মধ্যে মরিয়ম ছিল দ্বিতীয়।

জানা যায়, দরিদ্র বাবার সংসারে সহায়তার জন্য মরিয়ম চট্টগ্রামে পোশাক শ্রমিকের কাজ করতেন। গত ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়িতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ২৮ মে ভোরে মারা যান। পারিবারিক কবরস্থানেই তাকে দাফন করা হয়।

এদিকে দাফনের কয়েকদিন পর মরিয়মের কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই আলোচনায় উঠে আসে বিষয়টি।

স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবুল কাশেম পরিবারের বরাত দিয়ে বলেন, ‘আমি মরিয়মের জানাজা নামাজ পড়িয়েছি। সম্প্রতি স্বজনরা জানিয়েছিল মরিয়ম তার একমাত্র ভাই হাসান ও ছোট বোনকে স্বপ্নে জানিয়েছেন যে তিনি কবরের মধ্যে জীবিত আছে এবং তাকে জীবিত দাফন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অন্যান্য আলেমদেরকে পরিবার অবহিত করলে তারা জানান যে, এটি অবাস্তব। অন্যদিকে কবর থেকে সুগন্ধি বের হওয়ার ব্যাপারে জানানোর পর তারা কবরটির উপরে পুনরায় মাটি দেয়ার ফতোয়া দিলে স্বজনরা মাটিও দেন।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকালে স্বজনরা সবকিছু উপেক্ষা করে কবরটি খোঁড়েন এবং দেখেন কবরের ভেতরে থাকা মরিয়মের মরদেহটিতে পচন ধরেছে, পরে পুনরায় মাটি দিয়ে কবরটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়।

প্রতিবেশী মো.লোকমান লাহারি বলেন, প্রায় ৬-৭ বছর ধরে চট্টগ্রামে গার্মেন্টসে কাজ করতো মরিয়ম। কুরবানির ঈদে বাড়িতে এসেছিল। যেহেতু তারা আমাদের প্রতিবেশী এবং পাশের ঘর সে সুবাদে জানতে পেরেছি, তিনি মারা যাওয়ার দুইদিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন, পরে তাকে তার বাবা-মা ডাক্তার দেখিয়েছিল। ঈদের দিন ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে হঠাৎ মরিয়মের স্বজনদের কান্না শুনে তাদের ঘরে দিয়ে দেখি মরিয়ম অজ্ঞানের মতো অবস্থায় রয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর ফের কান্নার শব্দ শুনে গিয়ে দেখি মরিয়ম মারা গেছেন। পরে ঈদের দিন সকালে তাকে দাফন করা হয়েছে।

পুনরায় কবর খোঁড়ার কাজে সহযোগিতা করা স্থানীয় বাসিন্দা মো.কালু বলেন, মরিয়মের স্বজনরা তার কবর খুঁড়েছেন মূলত তিনি বেঁচে আছেন কিনা বিষয়টি দেখতে, আমিও তাদেরকে সহযোগিতা করেছি কবর খুঁড়তে। ‘কবর খোঁড়ার পর স্বজনরা দেখেছেন সে মৃত অবস্থায় রয়েছে, কবর খোড়ার পর কবরের ভেতর থেকে কোনো সুগন্ধির ঘ্রাণ আমি পাইনি’।

তার বাড়িতে যাওয়ার পর শোকাহত পরিবারের সদস্যরা সরাসরি কথা বলতে রাজি না হলেও জানিয়েছেন, ‘সন্দেহ দূর করার জন্য মরিয়মের কবর খোঁড়া হয়েছিল এবং সন্দেহ দূর হয়েছে।’

এবিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘মরিয়মের স্বজনরা থানায় এসে জানিয়েছিল তার কবর থেকে সুগন্ধি বের হচ্ছে এবং তারা স্বপ্নে দেখেছেন সে কবরের মধ্যে জীবিত আছেন। আমি তাদেরকে বলেছি- যদি আপনারা কবর খুঁড়ে দেখতে চান তাহলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। পরে কবর খোঁড়ার বিষয়টি আমার জানা নাই।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2019
Design By Raytahost