1. online@dbnews.live : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@dbnews.live : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন

ফুলপুরে জাতীয় যুব দিবস পালিত

তপু রায়হান রাব্বি, ষ্টাফ রিপোর্টারঃ-
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৪১ বার পঠিত

‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ময়মনসিংহের ফুলপুরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে জাতীয় যুব দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে ৭দিন ব্যাপী দিবসটির উদ্বোধন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাধনা ত্রিপুরার নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

র‍্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাধনা ত্রিপুরার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদ সদস্য ময়মনসিংহ-২ আসনের মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ্ এমপি।
উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার গাজী মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ্ এমপি বলেন, যুবসমাজ দেশের মূল চালিকাশক্তি। বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে যুবকদের মেধা ও শ্রম কাজে লাগাতে হবে। শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তা ও আত্মকর্মী হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। এদেশি বেকার যুবকের হিসাব করলে সরকার চাকরির ব্যবস্থা করতে পারবে না! যারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল, তাদের যুবসমাজের প্রতি নজর ছিল না। তারা বড় বড় প্রজেক্টের নামে টাকা কামিয়ে বিদেশে পাঁচার করত। বিদেশে যে পরিমাণ টাকা পাঁচার করা হয়েছে । এ টাকা দিয়ে দেশে শিল্প কারখানা করলেও যুবকদের কর্মসংস্থান হত। দেশের অর্থ বাড়ত, হাজার হাজার যুবকের চাকরি হতো। তবে দিনশেষে যুবকদের প্রতি কারো সুদৃষ্টি ছিলনা। তবে বর্তমান আমরা যারা আছি তারদের প্রত্যেকেরই উচিত যুবকদের প্রতি সুদৃষ্টি দেওয়া। বর্তমানে সরকারি চাকরি যেন সোনার হরিণ। একটা পিয়নের চাকরি নিলেও নেতাকর্মীদের পিছনে দৌড়াতে হয় লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হয়। অসংখ্য লোকদের দেখেছি ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা দিয়েও পিয়নের চাকরি নেই। আমি মনে করি ১০-১৫ লাখ টাকা দিয়ে চাকরি না নিয়ে নিজ কর্মসংস্থান কর। তিনি আরো বলেন, ওনারা যে বেতন পান সংসার চালানো সম্ভব না যে কারণে অসংখ্য কর্মকর্তা অনিয়ম করে ঘুষ খায় দুর্নীতি করে। এছাড়াও তিনি হাদিসের উপর বিভিন্ন কথা বলেন যুবসমাজ নিয়ে।সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা কাজে লাগিয়ে যুবকেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে পারবেন।

এর আগে আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুবকদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসার নাদিয়া ফেরদৌসী, পিআইও বেগম শাহীন, সমাজসেবা অফিসার শিহাব উদ্দিন খান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি শাহ জামানী, খেলাফত মজলিসের সহ সভাপতি আজাহারুল ইসলাম , তাক্ওয়া অসহায় সেবা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচাল তপু রায়হান রাব্বি সহ বেশ কয়েকজন সফল উদ্যোক্তা। এতে বিভিন্ন যুব উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর

নেত্রকোনায় অতিরিক্ত শামুক আহরণে সংকটে ডিঙ্গাপোতা হাওরের মৎস্য সম্পদ ও পরিবেশ সোহেল খান দূর্জয়-নেত্রকোনা : নেত্রকোনায় অতিরিক্ত শামুক আহরণে সংকটে পড়েছে ডিঙ্গাপোতা হাওরের মৎস্য সম্পদ ও পরিবেশ। বর্ষা মৌসুম জুড়েই নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ডিঙ্গাপোতা হাওরে চলছে অবাধে শামুক শিকার। জীবিকার তাগিদে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ রাত জেগে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও জাল ব্যবহার করে হাওরের তলদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ শামুক সংগ্রহ করছেন। সূর্য ওঠার আগেই সেই শামুক হাওরের কূলে এনে স্তূপ করা হয় এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে বস্তাবন্দি করে বিক্রি করে দেওয়া হয় বিভিন্ন হাঁসের খামারে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় শামুক কুড়ানো এখন ওই অঞ্চলের অনেক মানুষের আয়ের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। খামারিরা দানাদার খাবারের খরচ কমাতে তুলনামূলক কম দামে প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদান হিসেবে হাঁসকে শামুক খাওয়াচ্ছেন। ফলে দিন দিন হাওরের বাজারে এর চাহিদা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। প্রতিদিন ভোরে মোহনগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের অস্থায়ী বাজারে বসে শামুকের জমজমাট বিকিকিনি। পাইকাররা এখান থেকে পাইকারি দরে শামুক কিনে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাঁসের খামারে। তবে বাণিজ্যিকভাবে এভাবে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মণ শামুক তুলে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ রক্ষায় নিয়োজিত কর্মীরা। তাদের মতে, কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে শামুক নিধন চলতে থাকলে হাওরের স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। শিক্ষা সংস্কৃতি পরিবেশ ও বৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির নেত্রকোণা জেলা সভাপতি নাজমুল কবির সরকার এ বিষয়ে জানান, শামুক হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে প্রাকৃতিক ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে। এভাবে প্রতিনিয়ত আহরণ অব্যাহত থাকলে খুব দ্রুতই এই এলাকা থেকে শামুক বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যা পুরো হাওর অঞ্চলের প্রতিবেশ ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, শামুক কেবল হাঁসের খাদ্য নয়, এটি জলাভূমির পুরো খাদ্যশৃঙ্খলের (Food Chain) অন্যতম মূল ভিত্তি। দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ, পানকৌড়ি, বকসহ বিভিন্ন জলচর পাখির অন্যতম প্রধান খাবার এই শামুক। তাছাড়া পানির গুণগত মান ভালো রাখতেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।অনিয়ন্ত্রিতভাবে শামুক ধ্বংস করা হলে জলাশয়ের অন্যান্য প্রাণিকুলও খাদ্যসংকটে পড়বে। এ বিষয়ে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মতিন বলেন, জলজ প্রতিবেশের যেকোনো একটি নির্দিষ্ট উপাদান অতিরিক্ত পরিমাণে আহরণ করা হলে তা পুরো পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ডিঙ্গাপোতা হাওরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে দ্রুতই একটি টিম সরেজমিনে পরিদর্শনে যাবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জলবায়ু ও পরিবেশের ক্ষতি না করে কীভাবে বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করা যায়, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। সাধারণ মানুষের জীবিকার তাগিদকে গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে হাওরে শামুক আহরণে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও সরকারের কঠোর নজরদারি কার্যকর করার জোর দাবি তুলেছেন তারা। ৩১/১০/২০২৬ ইং

নেত্রকোনায় অতিরিক্ত শামুক আহরণে সংকটে ডিঙ্গাপোতা হাওরের মৎস্য সম্পদ ও পরিবেশ সোহেল খান দূর্জয়-নেত্রকোনা : নেত্রকোনায় অতিরিক্ত শামুক আহরণে সংকটে পড়েছে ডিঙ্গাপোতা হাওরের মৎস্য সম্পদ ও পরিবেশ। বর্ষা মৌসুম জুড়েই নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ডিঙ্গাপোতা হাওরে চলছে অবাধে শামুক শিকার। জীবিকার তাগিদে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ রাত জেগে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও জাল ব্যবহার করে হাওরের তলদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ শামুক সংগ্রহ করছেন। সূর্য ওঠার আগেই সেই শামুক হাওরের কূলে এনে স্তূপ করা হয় এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে বস্তাবন্দি করে বিক্রি করে দেওয়া হয় বিভিন্ন হাঁসের খামারে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় শামুক কুড়ানো এখন ওই অঞ্চলের অনেক মানুষের আয়ের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। খামারিরা দানাদার খাবারের খরচ কমাতে তুলনামূলক কম দামে প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদান হিসেবে হাঁসকে শামুক খাওয়াচ্ছেন। ফলে দিন দিন হাওরের বাজারে এর চাহিদা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। প্রতিদিন ভোরে মোহনগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের অস্থায়ী বাজারে বসে শামুকের জমজমাট বিকিকিনি। পাইকাররা এখান থেকে পাইকারি দরে শামুক কিনে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাঁসের খামারে। তবে বাণিজ্যিকভাবে এভাবে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মণ শামুক তুলে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ রক্ষায় নিয়োজিত কর্মীরা। তাদের মতে, কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে শামুক নিধন চলতে থাকলে হাওরের স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। শিক্ষা সংস্কৃতি পরিবেশ ও বৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির নেত্রকোণা জেলা সভাপতি নাজমুল কবির সরকার এ বিষয়ে জানান, শামুক হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে প্রাকৃতিক ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে। এভাবে প্রতিনিয়ত আহরণ অব্যাহত থাকলে খুব দ্রুতই এই এলাকা থেকে শামুক বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যা পুরো হাওর অঞ্চলের প্রতিবেশ ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, শামুক কেবল হাঁসের খাদ্য নয়, এটি জলাভূমির পুরো খাদ্যশৃঙ্খলের (Food Chain) অন্যতম মূল ভিত্তি। দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ, পানকৌড়ি, বকসহ বিভিন্ন জলচর পাখির অন্যতম প্রধান খাবার এই শামুক। তাছাড়া পানির গুণগত মান ভালো রাখতেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।অনিয়ন্ত্রিতভাবে শামুক ধ্বংস করা হলে জলাশয়ের অন্যান্য প্রাণিকুলও খাদ্যসংকটে পড়বে। এ বিষয়ে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মতিন বলেন, জলজ প্রতিবেশের যেকোনো একটি নির্দিষ্ট উপাদান অতিরিক্ত পরিমাণে আহরণ করা হলে তা পুরো পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ডিঙ্গাপোতা হাওরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে দ্রুতই একটি টিম সরেজমিনে পরিদর্শনে যাবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জলবায়ু ও পরিবেশের ক্ষতি না করে কীভাবে বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করা যায়, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। সাধারণ মানুষের জীবিকার তাগিদকে গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে হাওরে শামুক আহরণে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও সরকারের কঠোর নজরদারি কার্যকর করার জোর দাবি তুলেছেন তারা। ৩১/১০/২০২৬ ইং
নেত্রকোনায় অতিরিক্ত শামুক আহরণে সংকটে ডিঙ্গাপোতা হাওরের মৎস্য সম্পদ ও পরিবেশ সোহেল খান দূর্জয়-নেত্রকোনা : নেত্রকোনায় অতিরিক্ত শামুক আহরণে সংকটে পড়েছে ডিঙ্গাপোতা হাওরের মৎস্য সম্পদ ও পরিবেশ। বর্ষা মৌসুম জুড়েই নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ডিঙ্গাপোতা হাওরে চলছে অবাধে শামুক শিকার। জীবিকার তাগিদে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ রাত জেগে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও জাল ব্যবহার করে হাওরের তলদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ শামুক সংগ্রহ করছেন। সূর্য ওঠার আগেই সেই শামুক হাওরের কূলে এনে স্তূপ করা হয় এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে বস্তাবন্দি করে বিক্রি করে দেওয়া হয় বিভিন্ন হাঁসের খামারে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় শামুক কুড়ানো এখন ওই অঞ্চলের অনেক মানুষের আয়ের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। খামারিরা দানাদার খাবারের খরচ কমাতে তুলনামূলক কম দামে প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদান হিসেবে হাঁসকে শামুক খাওয়াচ্ছেন। ফলে দিন দিন হাওরের বাজারে এর চাহিদা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। প্রতিদিন ভোরে মোহনগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের অস্থায়ী বাজারে বসে শামুকের জমজমাট বিকিকিনি। পাইকাররা এখান থেকে পাইকারি দরে শামুক কিনে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাঁসের খামারে। তবে বাণিজ্যিকভাবে এভাবে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মণ শামুক তুলে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ রক্ষায় নিয়োজিত কর্মীরা। তাদের মতে, কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে শামুক নিধন চলতে থাকলে হাওরের স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। শিক্ষা সংস্কৃতি পরিবেশ ও বৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির নেত্রকোণা জেলা সভাপতি নাজমুল কবির সরকার এ বিষয়ে জানান, শামুক হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে প্রাকৃতিক ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে। এভাবে প্রতিনিয়ত আহরণ অব্যাহত থাকলে খুব দ্রুতই এই এলাকা থেকে শামুক বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যা পুরো হাওর অঞ্চলের প্রতিবেশ ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, শামুক কেবল হাঁসের খাদ্য নয়, এটি জলাভূমির পুরো খাদ্যশৃঙ্খলের (Food Chain) অন্যতম মূল ভিত্তি। দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ, পানকৌড়ি, বকসহ বিভিন্ন জলচর পাখির অন্যতম প্রধান খাবার এই শামুক। তাছাড়া পানির গুণগত মান ভালো রাখতেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।অনিয়ন্ত্রিতভাবে শামুক ধ্বংস করা হলে জলাশয়ের অন্যান্য প্রাণিকুলও খাদ্যসংকটে পড়বে। এ বিষয়ে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মতিন বলেন, জলজ প্রতিবেশের যেকোনো একটি নির্দিষ্ট উপাদান অতিরিক্ত পরিমাণে আহরণ করা হলে তা পুরো পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ডিঙ্গাপোতা হাওরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে দ্রুতই একটি টিম সরেজমিনে পরিদর্শনে যাবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জলবায়ু ও পরিবেশের ক্ষতি না করে কীভাবে বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করা যায়, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। সাধারণ মানুষের জীবিকার তাগিদকে গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে হাওরে শামুক আহরণে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও সরকারের কঠোর নজরদারি কার্যকর করার জোর দাবি তুলেছেন তারা। ৩১/১০/২০২৬ ইং
All rights reserved © 2019
Design By Raytahost