
সরকারের মন্ত্রিসভায় শিগগিরই বড় ধরনের রদবদল ও সম্প্রসারণ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার পাশাপাশি একাধিক দপ্তরের দায়িত্বে থাকা কিছু মন্ত্রীকে পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে।
বিশেষ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে শেখ রবিউল আলম রবিকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে যেসব মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের দায়িত্বও পৃথক করে দেওয়া হতে পারে।
সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা এবং জনসেবার মান বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। অর্থ, বাণিজ্য, শিক্ষা ও পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একই ব্যক্তির হাতে থাকায় কাজের চাপ বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে দায়িত্ব বণ্টনে নতুন কাঠামো আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হলে কয়েকজন উপমন্ত্রী এবং সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সংসদ সদস্যও মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন। সম্ভাব্য নামের তালিকায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু। এছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিবুন্নবী খান সোহেলের নামও আলোচনায় রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী পদে ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলের নামও শোনা যাচ্ছে।
এছাড়া সংসদের উপনেতা হিসেবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য নতুন মুখের তালিকায় আরও রয়েছেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন, দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমান, কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ।
এরই মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে ওই মন্ত্রণালয়েও নতুন নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দলীয় ও প্রশাসনিক সূত্র বলছে, মন্ত্রীদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ কমিয়ে কার্যক্রমে গতি আনা এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নকে আরও কার্যকর করতেই মন্ত্রিসভার পুনর্গঠন বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, মন্ত্রিসভায় কে থাকবেন বা কোন দায়িত্ব পাবেন, সে সিদ্ধান্ত একান্তই প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের এখতিয়ার।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জনগণের সেবা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়াতে মন্ত্রিসভার আকার ও দায়িত্ব বণ্টনে পরিবর্তন আনা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতাবলে যেকোনো সময় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
Leave a Reply