
নিজের পদমর্যাদা মন্ত্রীদের চেয়েও বেশি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেছেন, ‘আমি শুধু একজন এমপি নই, আমি একজন মন্ত্রী। আমার গাড়িতে জাতীয় পতাকা থাকে, জাতীয় সংসদে মন্ত্রীরা যদি অধিবেশন চলাকালে মাসে একবার কথা বলে। আমি অধিবেশন চলাকালে প্রতিদিন দু-তিনবার কথা বলতে পারি। অতএব, আমার পদমর্যাদা মন্ত্রীদের চেয়েও বেশি।’
রবিবার (৩১ মে) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এসব কথা বলেন।
সবশেষ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে এনে তাহের আরও বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি আমাদের চেয়ে ১০ পার্সেন্ট ভোট বেশি পেয়েছে। জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি ও জোটগতভাবে ৭৭টি আসন পেয়েছে। আমরা আশা করছি, ভবিষ্যতে জামায়াতে ইসলামীই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে।’
নিজ নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখানকার বিএনপি দাবি (চৌদ্দগ্রামের) করছে—এই এলাকার সকল উন্নয়ন তাদের হাত ধরেই হবে। তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, অন্তর্বর্তী সরকার থাকাকালে আমি এই এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এসেছি। নির্বাচন অতিবাহিত হয়েছে মাত্র তিন মাস। এরই মধ্যে এলাকার উন্নয়নের আরও ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ এনেছি।’
তাহের প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সবে সরকারের তিন মাস অতিবাহিত হয়েছে। যদি বিএনপি পাঁচ বছর ক্ষমতায় টিকে যায়, টিকবে কি না?’ ডাক্তার তাহেরের এমন প্রশ্নে দর্শক সারিতে নেতা-কর্মীরা বলেন, টিকবে না। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি কিন্তু কিছু বলি নাই। আমরা চাই তারা (বিএনপি) ক্ষমতায় থাকুক। তারা ক্ষমতায় থাকলে এই বরাদ্দ আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান, কুমিল্লা মেডিকেল সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী এবং ইসলামী চিন্তাবিদ ড. আবুল কালাম আজাদ বাশারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
ঈদ পুনর্মিলনী উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সামাজিক সম্প্রীতি এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তারা দেশ ও জাতির উন্নয়ন, নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন থেকে আগত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক, পেশাজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
Leave a Reply