1. admin@doeltv.com : admin :
‘বিচার লাগবো না, আমার বাবা লাগবোরে’ এক মায়ের করুন আর্তনাদ - OnlineTV
বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন

‘বিচার লাগবো না, আমার বাবা লাগবোরে’ এক মায়ের করুন আর্তনাদ

জেলা প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুরঃ-
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৪৩ বার পঠিত
শেয়ার করুন

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদক ব্যবসায়ীদের পুলিশে দেওয়ায় কলেজছাত্র আশরাফুল ইসলামকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের আটকের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করা হয়েছে।

(১৮ ফেব্রুয়ারি) বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার সাত আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
এসময় আশরাফুলের মা নিগার সুলতানা আর্তনাদ করে বলছিলেন, ‘বিচার লাগবো না, আমার বাবা লাগবোরে, আমার বুকের হাহাকারটা নিভাইয়া দে, আমারে একটু মা কইয়া ডাইকলেই অইবোরে, আমি খরাত (ভিক্ষা) কইরা কইরা তোমাদের টাকা দিমুরে বাবার লাইগা, আমারে বাবা আইনাদেরে, আমার একটা বাবারে, ওদের ১০টা আছেরে, আমার আর কেউ নাইরে।’

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আদনান হাবিব, নিহত আশরাফুলের বাবা আজিজুল হক, স্থানীয় অন্তরা আক্তার ও কে এম সালেহ আহমেদ প্রমুখ।
আশরাফুলের মামা কে এম সালেহ আহমেদ জানান, এলাকার কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে পুলিশকে সহযোগিতা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আশরাফুলকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে মারা হয়। আমরা হত্যাকারীদের দ্রুত ফাঁসি চাই।

৫ বোনের এক ভাই ছিল আশরাফুল। কিন্তু মাদক ব্যবসায়ীরা তাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় তার বোন অন্তরা আক্তার বলেন, ঘর থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। সব আসামি এখনো ধরা পড়েনি।

রায়পুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত চারজন আসামিকে আটক করেছি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে তিনজন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আটককৃত শাহীনের কাছ থেকে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত আলামত জব্দ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের আটক করতে অভিযান চলছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে- আশরাফুল উপজেলার চরবংশী গ্রামের বাসিন্দা ও রায়পুর রুস্তম আলী কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। গত ১৪ জানুয়ারি নাহিদ বেপারী ও শাহিন বেপারীসহ আসামিরা তাকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে আহত ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা করে। খবর পেয়ে আশরাফুলকে উদ্ধার করে ঢাকায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় ১৬ জানুয়ারি দুপুরে আশরাফুলের বাবা আজিজুল বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। এরপর অভিযান চালিয়ে শাহিন বেপারীকে পুলিশ আটক করে।

২০ জানুয়ারি রাজধানীর গ্রিন রোডে নিউ লাইফ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আশরাফুল মারা যান। ২৩ জানুয়ারি রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার ভুলতা গাউছিয়া এলাকা থেকে শাকিল, সোহাগ বেপারীসহ তিনজনকে আটক করে র‍্যাব-১১।

Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2022