1. admin@doeltv.com : admin :
ভারতে বসে রাজনীতিতে ফেরার ছক আকছেন আ.লীগের নেতারা - OnlineTV
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

ভারতে বসে রাজনীতিতে ফেরার ছক আকছেন আ.লীগের নেতারা

রাজনৈতিক ডেস্কঃ-
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ২৮ বার পঠিত
শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নির্বাসিত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ভারতের রাজধানী দিল্লির এক সুরক্ষিত ও গোপন আস্তানায় অবস্থান করছেন। তিনি দিনের বড় একটা সময় বাংলাদেশে থাকা তার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে দলীয় সভা ও ফোনালাপে ব্যস্ত থাকছেন। এ সময় তিনি ভবিষ্যতের ‘সংগ্রামের’ জন্য দলকে প্রস্তুত করারও প্রয়াস চালাচ্ছেন।

বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরাট একটা অংশ বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন। তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন শেখ হাসিনা। আগামীর বাংলাদেশে রাজনীতিতে ফেরার জন্য তাদের নিয়ে নতুন ছক কষছেন তিনি। দলীয় কৌশল নির্ধারণের জন্য ইতিমধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্যসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়মিত কলকাতা থেকে দিল্লিতে ডেকে পাঠাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন তাদের একজন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের লোকজনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ভবিষ্যতের সংগ্রামের জন্য তিনি দলকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনি (শেখ হাসিনা) কখনো কখনো দিনে ১৫ বা ১৬ ঘণ্টাও ফোন কল এবং বৈঠকে ব্যয় করেন। আমাদের নেত্রী খুবই আশাবাদী। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি বীরের বেশে দেশে ফিরবেন।’

অবশ্য আওয়ামী লীগের নির্বাসিত এসব নেতার প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা নির্ভর করছে আসন্ন নির্বাচনের ব্যর্থতার ওপর। তারা মনে করছেন, এই নির্বাচন দেশে কোনো স্থিতিশীলতা বা শান্তি বয়ে আনবে না। সেজন্য মানুষ আবার আওয়ামী লীগের দিকেই মুখ করবে। তাই তারা নিজেদের কর্মীদের নির্বাচন বর্জনের নির্দেশ দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে শেখ হাসিনার সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘আমরা আমাদের কর্মীদের সব ধরনের নির্বাচনকেন্দ্রিক সংশ্লিষ্টতা থেকে দূরে থাকতে, প্রচার ও ভোট বর্জন করতে এবং মোটের ওপর এই প্রহসনের প্রক্রিয়ায় অংশ না হতে বলছি।’

তবে নির্বাচনের আগে দেশে ফেরার চিন্তা করছেন না আওয়ামী লীগের এসব নেতা। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাদের শত শত কর্মীর ওপর হামলা করেছে, হত্যা করেছে বা জামিন ছাড়াই তাদের কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। সেজন্য আওয়ামী লীগের অনেক কর্মী-সমর্থক এখনো আত্মগোপনে রয়েছেন।

এ বিষয়ে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘কারাগারে যেতে হবে, সেই ভয়ে কলকাতায় থাকছি- বিষয়টি এমন নয়। আমরা এখানে আছি; কারণ দেশে ফিরলে আমাদের হত্যা করা হবে।’

অবশ্য আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা মনে করছেন, দেশে ফিরলে তাদের জেলে যেতে হবে ঠিক। কিন্তু তাদের বেশিদিন জেল খাটতে হবে না। কলকাতায় অবস্থানরত অন্যদের মতো আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয়ও জোর দিয়ে বলেন, ভারতে তার এই নির্বাসন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। যদিও তিনি মেনে নিয়েছেন— শেষমেশ দেশে ফিরলে তার জন্য হয়তো কারাগারই অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের জন্য সবকিছু খুব খারাপ। কিন্তু মনে করি না যে বেশি দিন এমন থাকবে।’

প্রসঙ্গতঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আওয়ামী দুঃশাসনের ইতি ঘটে। তখন বাধ্য হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে চড়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলে জনগণের দাবির মুখে আওয়ামী লীগ ও তার ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত অপরাধে সংশ্লিষ্টতার জন্য দলটির বিভিন্ন নেতাকর্মীকে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ। তারা নিজেদের কর্মকাণ্ডে অনুতপ্ত নন। এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে তারা জনগণের বিদ্রোহ হিসেবে মেনে নিতেও রাজি নন; তারা একে একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলেও দাবি করেন।

সূত্রঃ-দ্য গার্ডিয়ান

Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2022