
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের নতুন অ্যাপ্রোচ সড়কে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।
পরিদর্শন শেষে মো. রাজিব আহসান বলেন, ঘাটে বাঁশ ব্যবহার কোনো অনিয়ম নয়; বরং এটি প্রকৌশল নকশা ও অনুমোদিত ব্যয়ের (এস্টিমেট) অংশ।
বুধবার (১ জুলাই) বিকালে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৪ ও ৫ নম্বর ফেরিঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনের সময় তিনি নতুন নির্মিত দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ঘাট, অ্যাপ্রোচ সড়ক, চলমান উন্নয়নকাজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা সরকারের ধারাবাহিক দায়িত্বের অংশ। কোথাও কোনো ভুলত্রুটি বা গাফিলতি রয়েছে কি না, তা সরেজমিনে দেখতেই তিনি এসেছেন।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত পৌঁছায়। এরপর তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সরেজমিনে বিষয়টি যাচাই করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা তদন্ত করে দেখেছি, এখানে যে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটি অনুমোদিত নকশা ও এস্টিমেট অনুযায়ীই করা হচ্ছে। এই অ্যাপ্রোচ রোডগুলো স্থায়ী নয়। এগুলো সাধারণত দুই থেকে তিন মাসের বেশি থাকে না। নদীর পানি ওঠানামা ও তীব্র ভাঙনের কারণে এখানে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি বলেন, ১৯৬৩ সাল থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে একই পদ্ধতিতে অস্থায়ী অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ হয়ে আসছে। বাঁশ ব্যবহার করা হয় যাতে নদীর পাড়ের মাটি সরে না যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহজেই স্থানান্তর বা অপসারণ করা যায়। যদি রড ও কংক্রিট দিয়ে স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ করা হয়, তাহলে ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। অথচ কয়েক মাস পরই নদীভাঙন বা পানির পরিবর্তনের কারণে সেই কাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, প্রকৌশল একটি প্রযুক্তিগত বিষয়। আবেগ বা ধারণার ভিত্তিতে নয়, প্রকৌশল নকশা ও বাস্তবতার আলোকে এসব কাজ করা হয়।
গণমাধ্যমের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নকশা, এস্টিমেট ও কারিগরি বিষয়গুলো জেনে নেওয়া উচিত। দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো সম্ভব।
তিনি বলেন, আপনারা দেশের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাই যেকোনো তথ্য প্রচারের আগে প্রকৃত বিষয়টি যাচাই করলে বিভ্রান্তি তৈরি হবে না।
নদীভাঙন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দৌলতদিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র নদীভাঙন হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে নদীশাসনের একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেটি পর্যালোচনার পর বাস্তবায়ন হলে স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি বলেন, স্থায়ী নদীশাসন না হওয়া পর্যন্ত মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাবে।
ঘাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতিটি উন্নয়নকাজের স্থানে তথ্যসমৃদ্ধ ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন করা হবে। সেখানে প্রকল্পের নাম, নকশা, কী পরিমাণ উপকরণ ব্যবহার হবে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নাম ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ থাকবে। এতে সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যম সহজেই প্রকল্পের তথ্য জানতে পারবেন।
এ ছাড়া প্রতিটি ঘাটে আটটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে ঘাটের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই দৌলতদিয়া ঘাটকে মানুষের জন্য আরও নিরাপদ, আরামদায়ক ও সুশৃঙ্খল করা হোক। সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে। গণমাধ্যম ও জনগণের সহযোগিতায় আমরা আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারব।
Leave a Reply