1. online@dbnews.live : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@dbnews.live : admin :
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন

জুলাই শহীদের অনুদানের টাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করলেন বাবা, দুর্দশায় মা

জুবায়ের খন্দকার, ষ্টাফ রিপোর্টারঃ-
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ৬৮ বার পঠিত

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ছেলের অনুদানের টাকা দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত মোহাম্মদ আব্দুল মতিন রাজধানীর মতিঝিলে একটি প্রতিষ্ঠানে সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।

তার প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম (৪৫)। এই দম্পতির একমাত্র ছেলে ছিলেন শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন। এ ছাড়া তাদের ১০ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই আব্দুল মতিন দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে ঢাকার মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন। গুলি তার ডান চোখের পাশ দিয়ে ঢুকে মাথা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জুলাই শহীদ ছেলের ভাতার অনুদানের টাকা থেকে ৭ লাখ টাকার কাবিন ও সোয়া ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার দিয়ে গত ২৯ মে দ্বিতীয় বিয়ে করেন আব্দুল মতিন।

এ ঘটনার খবর পেয়ে অভিমানে গত ২ জুন একমাত্র মেয়ে শেখ মুমতাহিনা বিনতে মতিনকে (স্মাইল) নিয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন মমতাজ বেগম। তবে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে আত্মহত্যা থেকে বিরত রাখেন।

এরপর বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ছাড়া আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে জুলাই শহীদ ছেলে শাহরিয়ারের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বেশ অর্থবিত্তের মালিক হয়ে যান।

শহীদ শাহরিয়ারের মা মমতাজ বেগম বলেন, সন্তান হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই আমার অনুমতি ছাড়াই আব্দুল মতিন দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। আমার জানামতে বিয়েতে সোয়া ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার কেনার সামর্থ্য তার নেই। আমার শহীদ ছেলের রক্তের দাগ শুকানোর আগেই সরকারের দেওয়া অনুদানের টাকায় তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।

আব্দুল মতিনের প্রথম স্ত্রী বলেন, আমার ছেলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর পর থেকেই তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করার জন্য আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। তিনি বারবার বলেছিলেন, আমার বংশ রক্ষার জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করতে হবে।

মমতাজ বেগম অভিযোগ করেন, আবদুল মতিন জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ একমাত্র ছেলে শাহরিয়ারের মৃত্যুকে পুঁজি করে নানা ধান্ধাবাজি ও প্রতারণা শুরু করেন। বারবার নিষেধ করার পরেও তিনি কোনো কথাই শুনতে চাননি। দুই বউয়ের ভরণপোষণের সামর্থ্য তার নেই। আমি ২২ বছর তার সঙ্গে কাটিয়েছি। তার আর্থিক অবস্থা ভালো না।

মমতাজ বেগম আরো বলেন, শহীদ পরিবারকে দেওয়া সরকারি বরাদ্দের এককালীন ৩০ লাখ টাকা তিনি আমার সই জালিয়াতি করে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আমি সচেতন থাকায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শুধু তাই নয়, আমার শহীদ ছেলের নাম ভাঙিয়ে আব্দুল মতিন বিভিন্ন সময় মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আমার এখন একটাই চাওয়া, মেয়েটাকে বড় করার আগে যেন আল্লাহ আমাকে নিয়ে না যায়। এ ঘটনার আমি সঠিক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শহীদ শাহরিয়ারের বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বলেন, আমার বংশ রক্ষার জন্য আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। বিশেষ করে আমার মায়ের অনুরোধে আমি বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছি। এ ছাড়া বিয়ে করার আগে প্রথম স্ত্রী আমাকে দ্বিতীয় বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু তিনি এখন তা অস্বীকার করছেন।

আব্দুল মতিন আরো বলেন, আমি আলফা গ্রুপের মতিঝিল শাখায় সেলস ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছি। বিয়ে করার মতো সামর্থ্য আমার আছে। ছেলের অনুদানের টাকা দিয়ে বিয়ে করতে হবে, বিষয়টি এমনও নয়। বিয়ে করার পর আমি প্রথম স্ত্রীকে আনতে পাঁচবার বাসায় গিয়েছি। মেয়ের সঙ্গেও দেখা করতে পারিনি। সবশেষ অন্য একজনের মাধ্যমে তাদের বাসায় প্রবেশ করি। কিন্তু আমাকে অসম্মান করে বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি এখন সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস বলেন, জুলাই শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি শুনেছি। তবে, বিষয়টি মেনে নেওয়ার মতো না। ছেলেকে যদি সত্যিই তিনি ভালোবাসতেন, তাহলে তিনি এমন একটি কাজ করতেন না। তাদের একটি মেয়েও রয়েছে। তিনি চাইলেই মেয়েটাকে নিয়েই সংসার করে যেতে পারতেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2019
Design By Raytahost