খুলনায় হরিণটানা থানা এলাকায় মুরাদ মোল্লার বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখা এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে রেলব্রিজ আবাসিক এলাকায় বাড়ির উঠানে মাটি খুড়ে পুঁতে রাখা লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ মুরাদ মোল্লা ও তার স্ত্রী ফালগুনী খাতুনকে আটক করেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা লাশটি তিনমাস আগে নিখোঁজ একজন ইজিবাইক চালকের বলে জানিয়েছে।
ইজিবাইক ছিনিয়ে নিতে ভাড়ার কথা বলে তাকে বাড়িতে ডেকে হত্যার পর লাশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। পরে ইজিবাইকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আলাদা বিক্রি করা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, পারিবারিক কলহে এই দম্পতির মধ্যে প্রতিদিন ঝগড়া হতো। ঝগড়ার মাঝে তারা এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করতো। এভাবে এলাকাবাসীর মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হয়।
সোমবার সকালে মুরাদ তার স্ত্রী ফালগুনীকে মারধর করলে, তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে থানা-পুলিশকে অবগত করেন এবং ইজিবাইক চালককে হত্যার বিষয় নিয়ে পুলিশকে তথ্য দেয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দম্পতিকে আটক করে। এরপর তাদের দেখানো স্থানে মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, মাটি খুড়ে সেখানে অর্ধগলিত লাশ পাওয়া যায়। হাড়গোড়, মাথার অংশ পাওয়া গেলেও লাশের একটি পা ছিল না। নিহত ব্যক্তি পঙ্গু ছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, গত রমজান মাসের শুরুর দিকে একজন ইজিবাইক চালক নিখোঁজ হয়। লাশটি তার হতে পারে।
এদিকে ওই বাড়ি থেকে সিটি করপোরেশন থেকে দেওয়া ইজিবাইকের রেজিষ্ট্রেশন নম্বর-১৬৭২ প্লেট পাওয়া যায়। এটি গোলাম মোস্তফা নামে এক ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রেশনকৃত।
তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, প্রায় চার বছর আগে তিরি ইজিবাইকটি বিক্রি করেছেন। সম্ভবত নিহত ব্যক্তি বর্তমানে এই ইজিবাইকের মালিক। পুলিশ তার পরিচয় উদ্ধারের চেষ্টা করছে।