ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বিসকা ইউনিয়নে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে দুই দিনে পক্ষে-বিপক্ষে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) আকরামুল হক (৪৮) হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলায় গুরুতর আহত নূরজাহান (৪৫) নামে এক গৃহবধূ চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে মারা যান।
নিহত নূরজাহান উপজেলার বিসকা ইউনিয়নের আব্দুল হাইয়ের স্ত্রী এবং আকরামুল হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আল-আমিনের মা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই (রোববার) দুপুরে উপজেলার বিসকা ইউনিয়নের নগুয়া গ্রামের খিচা এলাকায় জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে আকরামুল হককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই ক্ষুব্ধ স্বজনরা প্রধান সন্দেহভাজন আল-আমিনের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় আল-আমিনের মা নূরজাহান ও তার স্ত্রী আহত হন। গুরুতর আহত নূরজাহানকে সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে তিনি মারা যান।
ফুলপুরের সার্কেল এএসপি মোঃ রাকিবুর রহমান বলেন, আকরামুল হক হত্যাকাণ্ডের পরপরই প্রধান সন্দেহভাজন আল-আমিনের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আল-আমিনের স্ত্রী ও মা নূরজাহান আহত হন। মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত নূরজাহানকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি আরও জানান, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে পরস্পরবিরোধী দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুই দিনে দুইজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিহত নূরজাহানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আমরা এখনো ঘটনাস্থলে আছে। রাত ৮টায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় পৃথক কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে অভিযোগ রয়েছে। আকরামুল হত্যা ও পরবর্তী হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।