রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে প্রসব-পরবর্তী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে সরকার। হাসপাতালটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। কোনো অপরাধী যেন আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যেতে না পারে, সেজন্য সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার (অ্যাটর্নি জেনারেল) পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান তদন্তের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও নতুন একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। উভয় কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (১ জুন) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি যেন শতভাগ আইনানুগভাবে কাজ করতে পারে, সেই পরামর্শ নিতেই আজ অ্যাটর্নি জেনারেলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা কী কী কার্যক্রম করছি এবং কীভাবে করছি, তা অ্যাটর্নি জেনারেলকে অবহিত করেছি। উনি আমাদের আইনানুগ উপদেশ দিয়েছেন। উনার পরামর্শ অনুযায়ীই আমরা বাকি পদক্ষেপগুলো নেবো।
মন্ত্রী আরও জানান, মন্ত্রণালয়ের কমিটির প্রতিবেদন আরও নিখুঁত ও প্র্যাকটিক্যাল করতে ভুক্তভোগী মায়েদের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। ঈদের ছুটির কারণে অধিদপ্তরের কমিটি গঠনে কিছুটা দেরি হলেও আজই তা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে উভয় কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে।
বৈঠক শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, প্রকৃতপক্ষে কারও দায় থাকলে তা নিরূপণ করা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দোষী চিহ্নিত হলে, সে যেন আইনি লুপহোল (ফাঁকফোকর) দিয়ে পার না পেয়ে যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।
তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল ফয়সাল সিদ্দিকীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী ৩ জুনের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
নবজাতক মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে নেমে হাসপাতালটির আরও কিছু অনিয়ম সামনে আসছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আদ-দ্বীন হাসপাতালের ভেতরে বেকারি পরিচালনার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলে তারা স্বীকার করেছেন। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কীভাবে এবং কেন এই লাইসেন্স দেওয়া হলো, তাও কঠোরভাবে খতিয়ে দেখছে মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল উভয়েই আশ্বস্ত করেছেন, তদন্তে যারই অবহেলা বা দোষ প্রমাণিত হবে, তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। ভবিষ্যতে যেন এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সরকার শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করেছে।