দারোয়ান। নগর জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। নিয়মিত নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি মালিকের অবর্তমানে টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান সম্পদ পাহারা দিয়ে রাখেন দারোয়ানরা। রাজধানীর প্রায় প্রতিটি বাড়ি ও গলিতে রয়েছে দারোয়ান। ঘরের পাশের ব্যাংকের বুথেও দিনরাত বসে থাকেন এরা। নগরীর বিত্তবানদের আশপাশে থাকলেও এদের অধিকাংশেরই ভাগ্যে ঈদে জুটে না এক টুকরো মাংস। সামাজিক মর্যাদার বিবেচনায় চাইতেও পারেন না এরা।
একই অবস্থা রিকশাচালকদেরও। ঈদের দিন হাজারো মানুষের কুরবানির গোস্ত বহন করলেও নিজের ভাগ্যে জুটেনা কুরবানির মাংস। এমন মানুষদের জন্য ব্যতিক্রমী কুরবানির আয়োজন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ। ঈদের দিন বিকালে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে এমন ব্যক্তিদের খুঁজে কুরবানির মাংস বুঝিয়ে দেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। লোক লজ্জায় চাইতে না পারা ব্যক্তিদের জন্য পাঠিয়ে দেন প্রতিনিধির মাধ্যমে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দুটি ব্যাংকের বুথে দায়িত্বরত দারোয়ানের সঙ্গে কথা বললে নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, আমাদের যে বেতন তা দিয়ে কুরবানি দেওয়া সম্ভব না। আবার চাকরি রেখে মাংস চাইতে যাওয়াও সম্ভব না। তাছাড়া চক্ষু লজ্জাতো আছেই। এজন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম মুরগির মাংস দিয়েই ঈদ কাটিয়ে দিবো। কিন্তু এখন এই সংস্থাটি দেওয়ায় গরুর মাংস খেতে পারবো ভেবে খুব ভালো লাগছে।
হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সহ সভাপতি মুহসিন বিন মুঈন বাংলাভিশনকে বলেন, ঢাকা শহরের একেকটি ভবনে তিন চারটাও কুরবানি হয়, এটিএম বুথ থেকে লাখ লাখ টাকা তুলে নিয়ে আমরা কুরবানি করি। কিন্তু নিভৃতে ওই বুথ বা বাসার দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করে দেখি তারা মুরগির মাংস খেয়ে কুরবানির ঈদের দিন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ তারা কুরবানি দিতেও পারে না আবার লোক লজ্জায় বা পেশাগত কারণে চাইতেও পারে না। আমরা হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি যেহেতু একেবারে বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর বেশি চেষ্টা করি। তাই বাসার দারোয়ান এবং রিকশা চালকদের জন্য আলাদা কুরবানির ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেই।
সংস্থাটির মহাপরিচালক নওমুসলিম মুহাম্মদ রাজ বলেন, আমরা শুধু বাংলাদেশ নয়, গাজা, সুদানসহ বিশ্বের নিপীড়িত মুসলমানদের জন্যও পশু কুরবানির ব্যবস্থা করেছি। এই আয়োজনের পুরোটাই মানুষের দানের টাকায় হয়েছে। যেহেতু আমাদের সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সব পন্থী শীর্ষ আলেমরা সংযুক্ত রয়েছেন তাই আমাদের প্রতি সবার আলাদা বিশ্বাসও রয়েছে। মানুষ বিশ্বাস করে আমাদের কাছে টাকা পাঠাচ্ছেন সেই টাকায় আমরা চেষ্টা করছি যার একান্ত প্রয়োজন সর্বোচ্চ আমানতদারিতার সঙ্গে তার কাছে কুরবানির মাংস পৌঁছে দিতে।