যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি নামকরা বেসরকারি খ্রিষ্টান স্কুলের সাবেক এক শিক্ষিকাকে ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রকে যৌন নিপীড়নের দায়ে ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। এই চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারির জেরে ঐতিহ্যবাহী ওই স্কুলটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
গ্রিন কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে নিজের অপরাধ স্বীকার করার পর ৬১ বছর বয়সী শেরি ডেল মলডিন নামের ওই সাবেক শিক্ষিকাকে এই সাজা দেওয়া হয়। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তাঁকে ২৫ বছরের শর্তাধীন মুক্তি (প্রোবেশন) এবং আজীবন যৌন অপরাধী হিসেবে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, জর্জিয়ার সিলোয়ামে অবস্থিত নাথানিয়েল গ্রিন অ্যাকাডেমিতে কর্মরত থাকাকালীন মলডিন ওই কিশোর ছাত্রকে যৌন নিপীড়ন করেন। আইনজীবীরা জানান, প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার এই অনৈতিক সম্পর্কের ঘটনা ঘটে।
রায় ঘোষণার পর ওকমুলগি জুডিশিয়াল সার্কিটের জেলা অ্যাটর্নি টি. রাইট বার্কসডেল বলেন, এখানে ভুক্তভোগী ছিল ১৫ বছরের একটি শিশু এবং অপরজন ৬০ বছর বয়সী এক প্রবীণ নারী। এই ঘটনার সত্যতাকে আমাদের এভাবেই দেখা উচিত।
পবিত্র শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের অবমাননা এবং বয়সের বিশাল ব্যবধানের কারণে প্রসিকিউটররা মলডিনের আরও দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের আবেদন করেছিলেন। তবে বিচারক টেরি এন. ম্যাসি শেষ পর্যন্ত ১২ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখেন। শুনানির সময় অভিযুক্ত শিক্ষিকা দাবি করেন, ওই সময় তিনি মানসিকভাবে একটি অন্ধকার সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং নিজের কৃতকর্মের জন্য তিনি অনুতপ্ত।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে, যখন ওই স্কুলেরই আরেক সাবেক শিক্ষিকা বনি এলিজাবেথ ব্রাউন (২৬) একই ছাত্রের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। তবে ব্রাউন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জুরি ট্রায়ালের আবেদন জানিয়েছেন, যা আগামী মাসে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
একই ছাত্রের সঙ্গে দুই নারী শিক্ষিকার এই কেলেঙ্কারির কারণে ১৯৫৯ সাল থেকে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হওয়া নাথানিয়েল গ্রিন অ্যাকাডেমিটি গত বছর স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী কিশোর ছাত্রটি বলে, এই নারীরা শিক্ষক পদের চরম অপব্যবহার করেছে। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি একটি শিশু হিসেবে তাকে নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।