দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ মোট সাতটি জেলা ও উপজেলায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। একইসঙ্গে একটি এলাকায় কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং রাজধানীর পূর্বাচলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ক্যাম্পাস স্থাপনের প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব ও সংশোধনী প্রস্তাবের মাধ্যমে এসব দাবি উত্থাপন করেন বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা।
সিদ্ধান্ত প্রস্তাবে ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান তার নির্বাচনী এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। তার এ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সংশোধনী প্রস্তাবে আরও নয়জন সংসদ সদস্য অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছয়জন নিজ নিজ এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন এবং একজন কৃষি কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব দেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের আবুল খায়ের ভূঁইয়া তার এলাকায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। এছাড়া বাগেরহাট-৪ আসনের মোহাম্মদ আব্দুল আলিম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের রুমিন ফারহানা, শেরপুর-1 আসনের রাশেদুল ইসলাম রাশেদ এবং মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ নিজ নিজ এলাকায় সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি তুলে ধরেন।
অন্যদিকে কুষ্টিয়া-২ আসনের মোহাম্মদ আব্দুল গফুর মীরপুর-ভেড়ামারা অঞ্চলে একটি কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন পূর্বাচলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের প্রস্তাব দেন।
এসব প্রস্তাবের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, বিভিন্ন সংসদ সদস্য তাদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তিনি কারিগরি শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্বারোপের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, গফরগাঁওয়ের আশপাশে ইতোমধ্যে একাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেমন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ত্রিশাল এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ক্ষেত্রে এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। পূর্বাচলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থাপনের প্রস্তাব নিয়েও ভবিষ্যতে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে বলে জানান তিনি।
পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রী সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানালে প্রস্তাবকারী সংসদ সদস্য তা মেনে নেন। পরে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।