ময়মনসিংহ নগরীর চর কালীবাড়ি এলাকায় রেলের জায়গা দখল করে সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) কর্মকর্তারা গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী বলছেন, রেলওয়ের জায়গাটি অব্যবহৃত ছিল। দখল হয়ে যাবে ভেবে জনস্বার্থে তারা কাউন্সিলরের কার্যালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজুল ইসলাম জানান, জুটমিল-সংলগ্ন রেলওয়ের ৫-৬ শতাংশ ভূমিতে সিটি করপোরেশনের একটি দোতলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। আরএনবি ফোর্সের একটি দল গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। তিনি আরও জানান, অবৈধ দখল প্রতিরোধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া চলছে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের আওতায় চারটি ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস নির্মাণের টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ১০ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয় নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিডা কনস্ট্রাকশন। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৪০ লাখ ২৯ হাজার টাকা। কিন্তু ওই ওয়ার্ডে জায়গা-সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেওয়ায় সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ কাজটিকে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। চলতি বছরের জুন মাসে এই নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও মহানগর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আমার সাইটের কাজ সরাসরি বন্ধ করতে পারে না। সিটি করপোরেশনের সচিব বললে আমি কাজ বন্ধ রাখব। তিনি আরও বলেন, তবে এর দায়ভার সিটি করপোরেশনকে নিতে হবে। এ পর্যন্ত যে খরচ হয়েছে, তা ফেরত দিলে আমি কাজ ছেড়ে দেব। সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করা হরমুজ আলী জানান, সিটি করপোরেশনই তাদের জায়গাটি বুঝিয়ে দিয়েছিল। গতকাল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এসে কাজ বন্ধ করে দেয়।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, জায়গাটি খালি পড়ে ছিল, ভেবেছিলাম, রেলওয়ে এখানে কোনো স্থাপনা করবে না এবং এটি দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। জনস্বার্থেই কাউন্সিলর কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এখন রেলওয়ে বাধা দেওয়ায় পরিস্থিতি পর্যালোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।