বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জুলাই সনদেই আছে যে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন। আমরা খণ্ডিতভাবে এটা চাচ্ছি না, আমরা চাই প্যাকেজ, আমরা চাই পিস মিল; পুরোটাই সেখানে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন হোক এবং এর ভিত্তিতে আমরা যেন আমাদের ন্যায্য দায়িত্ব পালন করতে পারি।’
আগামীকাল ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন সামনে রেখে ১১ মার্চ বুধবার জামায়াতসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বৈঠক হয়। বৈঠকের পর ডেপুটি স্পিকার পদের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের আমির সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, ‘সরকার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, কথা বলেছে। আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা চাই, জুলাই সনদের সংস্কারের প্রস্তাবগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হোক। এর আলোকে বিরোধী দলের যতটুকু পাওনা, আমরা ততটুকু চাই, এর বেশি চাই না।’
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও সংসদ সদস্য—দুটি শপথই নিয়েছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘দুঃখের বিষয় এখন পর্যন্ত সরকারি দল প্রথম শপথটি নেয়নি।’
ক্ষমতাসীনদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আসুন জুলাইকে সম্মান করি। চব্বিশ থাকলেই ছাব্বিশ হবে, নইলে ছাব্বিশের অস্তিত্ব থাকে না। চব্বিশকে অমান্য বা অগ্রাহ্য করে পাশ কাটিয়ে ছাব্বিশ জাতির জন্য কোনো সুখবর নয়। আমরা আশা করতে চাই, সরকারি দল এই কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করবে।’
দেশের ৬৯ ভাগ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটাকে অগ্রাহ্য করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা এর পক্ষে ভূমিকা রেখে যাব এবং আমরা চাইব যে চারটি বিষয় গণভোটে দেওয়া হয়েছিল, তার সবগুলো হুবহু গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হোক।’
সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে জামায়াত কী ভূমিকা নেবে, জানতে চাইলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা অনেক আলাপ-আলোচনা করেছি এ ব্যাপারে। কালকে আমাদের ভূমিকা দৃশ্যমান আপনারা দেখবেন। যেমন সূর্য উঠবে, তেমন ভাষণ শুনবেন এবং আমাদের ভূমিকাও দেখবেন।’
জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এই সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন। দলের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন৷