ভারতের উত্তর প্রদেশের বান্দা জেলায় শিশুদের ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এক দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির বিশেষ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রামভবন ও তার স্ত্রী দুর্গাবতী। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) আদালত তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি (আইপিসি) ও শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের (পকসো) একাধিক ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় দেন।
রায়ে বলা হয়, অপরাধগুলোর ব্যাপকতা, নির্মমতা এবং ভুক্তভোগী শিশুদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কারণে মামলাটি ‘রেয়ারেস্ট অব দ্য রেয়ার’ (বিরলতম থেকে বিরল) শ্রেণিভুক্ত। তদন্তে প্রমাণিত হয়, ওই দম্পতি পরিকল্পিতভাবে বহু বছর ধরে শিশুদের যৌন নির্যাতন ও শোষণ করেছে।
ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের পাশাপাশি আদালত সরকারকে প্রত্যেক ভুক্তভোগীকে ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের বাড়ি থেকে জব্দ করা নগদ অর্থ সমানভাবে ভুক্তভোগীদের মধ্যে বণ্টনেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ভারতের তদন্ত সংস্থা সিবিআই।
ক্ষতিপূরণের অর্থ ভুক্তভোগী শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, মানসিক পুনর্বাসন এবং সামাজিক পুনরুদ্ধারে ব্যয় করার কথাও বলা হয়েছে রায়ে। তদন্ত সংস্থাটি বলছে, অনেক শিশু এখনও নির্যাতনের শারীরিক ও মানসিক প্রভাব বহন করছে।
এক দশকজুড়ে চলেছে নির্যাতন
সিবিআই ২০২০ সালের ৩১ অক্টোবর মামলাটি নথিভুক্ত করে। অভিযোগে বলা হয়, শিশুদের ওপর ব্যাপক যৌন নির্যাতন, পর্নোগ্রাফির কাজে ব্যবহার এবং শিশু যৌন নির্যাতনের ভিডিও ও ছবি তৈরি করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিল।
তদন্তে উঠে আসে, ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বান্দা ও চিত্রকূট জেলায় অন্তত ৩৩ জন নাবালক ছেলেকে গুরুতর যৌন নির্যাতন করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর।
অনেক শিশু মারাত্মক শারীরিক আঘাতের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। কেউ কেউ দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যায় ভুগছে, আর অধিকাংশই এখনও গভীর মানসিক ট্রমার সঙ্গে লড়াই করছে।
কীভাবে শিশুদের ফাঁদে ফেলা হতো
রাষ্ট্রীয় সেচ বিভাগে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত রামভবন ও তার স্ত্রী দুর্গাবতী শিশুদের প্রলুব্ধ করতে টাকা, উপহার এবং অনলাইন ভিডিও গেমের সুযোগ ব্যবহার করতেন বলে আদালতে প্রমাণিত হয়। একবার বিশ্বাস অর্জন করার পর শিশুদের ওপর বারবার যৌন নির্যাতন চালানো হতো।
আদালত জানায়, এসব অপরাধ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং বহু বছর ধরে চলা একটি সুপরিকল্পিত ও ধারাবাহিক শোষণের অংশ। এই রায়ের মাধ্যমে শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিল দেশটির বিচার বিভাগ।