নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজনে জয়পুরহাটের পাঁচবিবির সীমান্তবর্তী ভীমপুর মাঠে বিশাল আকারের সোলার প্যানেল স্থাপন করেন একজন আলু ও মাছ চাষী। সাড়ে ৪’লক্ষাধিক টাকা খরচ করেও সার্বক্ষণিক প্রয়োজন মাফিক বিদ্যুৎ উৎপাদন না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে মাছ চাষের পাশাপাশি চাষাবাদের। বৈদ্যুতিক লাইনের মাধ্যমে গভীর নলকূপের সাহায্যে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নিলে সীমানা জটিলতায় তা বন্ধ হয়ে যায়। গভীর নলকূপ স্থাপনে সেচ লাইসেন্স পেতে সরকারি অফিস ঘুরেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।মাছ চাষের পাশাপাশি কৃষি ফসল উৎপাদনে গভীর নলকূপ স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করেন ভুক্তভোগী চাষী।
উপজেলার বাগজানা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আলহাজ্ব খলিলুর রহমানের বড়ছেলে আব্দুল বাছেদ মন্ডল মাছ চাষের পাশাপাশি কৃষি অফিসের পরামর্শে এবছর প্রায় ১’শ বিঘা জমিতে উন্নতমানের মিউজিকা জাতের বীজ আলু চাষ করেন। শনিবার দুপুরে “আরএসবি এগ্রো ফার্ম” সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিশাল এলাকা জুড়ে আলুর চাষ করা হচ্ছে। পাশেই ১০ বিঘা আয়তনের পুকুরে মাছ চাষ করা হলেও ৪ বিঘার পুকুরে শুধু পোনা মাছ চাষ করা হয়। জমি থেকে আলুর গাছ কেটে ফেলে দেওয়া হলেও এখনো মাটির নিচ থেকে আলু তোলা হয়নি। ফার্মের ম্যানেজার মোঃ মুনছুর মিয়া এর কারণ জানান, গাছ কাটার ১০-১৫ দিন পর উঠালে আলুর চামড়া বা খোসা মোটা, পুরো ও শক্ত হয়। যেহেতু আলুগুলো শুধু বীজ করা হবে এমনটি করলে বীজগুলো ভালো থাকবে বলেও, জানান তিনি। জমি তৈরি, বীজ বপন, সার কীটনাশক, শ্রমিক, যাবতীয় বাবদ প্রায় ৫০’ লক্ষ্য টাকা খরচ হয় বলেও জানান ম্যানেজার মুনছুর। বিঘা প্রতি (৭০ থেকে ৮০) মণ বীজ আলু পাওয়া যাবে। মাছ চাষ, আলু চাষ ও আমন-ইরি ধান চাষাবাদে সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পানি সরবরাহ হয়। সুর্যের আলো যতক্ষণ পানি ততক্ষণ, এভাবে এসব করা সম্ভব নয়। এতে ফার্মের অনেক ক্ষতি হচ্ছে।
ফার্মের মালিক বাছেদ মন্ডল বলেন, এত টাকা ব্যয় করেও পর্যাপ্ত পানির অভাবে ফার্মটি করা সম্ভব হচ্ছে না। সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে যেটুকু সম্ভব তা যেন দইয়ের স্বাদ ঘোলে মেটানোর চেষ্টা মাত্র। সেচ লাইসেন্সের আবেদন করেছি কিন্তু সীমানা জটিলতায় আটকে আছে। আমার ফার্মটি সরেজমিন পরিদর্শন পূর্বক পানির সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জসিম উদ্দিন জানান, ২০২৫-২৬ অর্থ বছর উপজেলায় ৮’হাজারের অধিক হেক্টর বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আলুর চাষ হয়েছে। তিনি আরো জানান, উপজেলা কৃষি অফিস আলু চাষিদের প্রণোদনা দেওয়া সহ সার্বিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।