জামায়েতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান ঘণ্টা খানেক আগে তাঁর ফেসবুক পেইজ থেকে একটা ইংরেজি পোস্ট করেছেন তারেক রহমানকে ট্যাগ করে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
তিনি ইংরেজিতে যা লিখেছেন। এর বাংলা করলে যা দাঁড়ায়; সেটা বরং আগে বলে নেই। এরপর আমার বিশ্লেষণে আসছে। তিনি এই খোলা চিঠিতে বলেছেন
তরুণ প্রজন্মের কাছে আমরা দায়বদ্ধ। রাজনীতি যে শালীন, দায়িত্বশীল এবং সংঘাতমুক্ত হতে পারে, তা প্রমাণ করার জন্য আসুন, গণমাধ্যমের সামনে ও জনসমক্ষে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার জন্য এমন একটি মানদণ্ড স্থাপন করি, যা হবে সমালোচনার জন্য উন্মুক্ত, জবাবদিহিমূলক এবং স্বচ্ছ।
আপনি যেহেতু আপনার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, তাই আমি আপনাকে একটি উন্মুক্ত মঞ্চে সরাসরি আলোচনায় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। যেখানে আমরা জাতির সামনে নিজ নিজ ইশতেহার উপস্থাপন করব এবং জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে।”
অর্থাৎ তিনি তারেক রহমানের সাথে সরাসরি একটা ডিবেটে যেতে চাইছেন। অ্যামেরিকায় যেমনটা হয় নির্বাচনের আগে। দুই দলের প্রার্থীরা টেলিভিশনের সামনে তর্ক করে। ঠিক তেমন একটা তর্কের আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতের আমীর।
আমি বেশ কিছুক্ষণ ভেবেছি কিছু বিষয় নিয়ে। প্রথম বিষয়টা হচ্ছে- এই পোস্টটা তিনি ইংরেজিতে করেছেন। কেন তিনি ইংরেজিতে করলেন? এর আগে পরের বেশ কিছু পোস্ট দেখে বুঝতে পারলাম- সব পোস্টই বাংলায়। তাহলে এই পোস্ট ইংরেজিতে করা কেন?
কারন তিনি পশ্চিমা দেশ এবং দূতাবাসদের সরাসরি একটা বার্তা দিয়ে রাখলেন- দেখো আমরা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কেমন দেখতে চাই, এ নিয়ে আলোচনা করতে চাইছি প্রকাশ্যে। কিন্তু তারেক রহমান চাইছে না। বিশেষ করে অ্যামেরিকানদের বোধকরি তিনি এই বার্তাটা দিতে চাইছেন। যেহেতু পশ্চিমারা এতে অভ্যস্ত।
দ্বিতীয় যে ব্যাপারটা আমি ভেবেছি, সেটা হলো- জামায়াতের কিন্তু বেশ কিছু বিতর্কিত অধ্যায় আছে। এটা আপনাকে স্বীকার করতেই হবে। বিশেষ করে মুক্তিযু*দ্ধে তাঁদের ঐতিহাসিক ভূমিকা অতি অবশ্যই স্বাধীন বাংলাদেশে প্রশ্নবিদ্ধ। এছাড়া ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতির ব্যাপারটাও দলটার প্রতিপক্ষগুলো প্রায়ই আলোচনায় আনে। তবুও কেন তিনি এমন একটা প্রকাশ্য আলোচনা বা ত*র্ক করতে চাইছেন এবং সেটা ফেসবুকে ইংরেজিতে পোস্ট করছেন? তিনি কি জানেন না এই বিষয়গুলো ওই ত*র্কে আসবে?
অতি অবশ্যই তিনি জানেন। আমার তো মনে হচ্ছে প*শ্চিমা বিশ্বকে এই দলটা একটা বার্তা দিতে চাইছে- তাঁরা যে কোন বিষয় ডিফেন্ড করতে প্রস্তুত। ভুল স্বীকার করতে প্রস্তুত। এমনকি আজকাল তো শুনতে পাচ্ছি উনারা বলছেন- জামায়তে ইসলাম একটা প্রগতিশীল ইসলামিক দল!! আমি এই নিয়ে কোন তর্কে যাচ্ছি না।
আমরা যারা কম-বেশি দেশের রাজনীতি সম্পর্কে জানি বা বুঝি। তাঁদের নিশ্চয় জানা আছে- নির্বাচনগুলোতে পশ্চিমা দেশগুলোও নজর রাখছে। অনেক সময় তাঁদের ভূমিকাও থাকে।
এখন দেখার বিষয় জনাব তারেক রহমান কী সিদ্ধান নেন। আমি মনে করি সরাসরি আলোচনায় গেলেও সমস্যা নেই। না গেলেও সমস্যা নেই। তবে দেশের মানুষ মনে হয় এমন একটা আলোচনা বা তর্ক দেখতে চায়। তাছাড়া পশ্চিমা বিশ্বকে বার্তা দেয়ার জন্যও এমন একটা তর্ক হতে পারে। সমস্যা নেই এতে।
আমি জামায়াতের আমীরের এই পোস্টকে খুবই সিগনিফিকেন্ট মনে করছি। কেন যেন মনে হচ্ছে- পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ওদের কোন একটা এলায়েন্স বা আন্ডারস্ট্যান্ডিং বোধকরি হয়েছে। আমি ভুলও হতে পারি। কিন্তু এমনটা আমার মনে হচ্ছে এদের আচার-আচরণ দেখে। দেখা যাক বিএনপি এবং জনাব তারেক রহমান কী সিদ্ধান্ত নেন।