সূত্রাপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে জামায়াত সমর্থিত ও পক্ষপাত দুষ্ট আচরণের অভিযোগ এনে তাকে পরিবর্তনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জমা দেন তিনি।
অভিযোগ দায়ের শেষে গণমাধ্যমকে ইশরাক বলেন, ‘সূত্রাপুরের কাঠেরপুলের কসমোপলিটন নামে একটি স্কুলে ১৫২ পিস স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় রয়েছে ঢাকা-৬ এর বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী। এ বিষয়ে সূত্রাপুর থানায় জানানো হলেও থানা থেকে পদক্ষেপ নেয়নি। পরে আবারও ওসির সঙ্গে কথা বলার পর ওই ভবনে গিয়ে মালিকপক্ষকে সতর্ক করে দেন। পরে বস্তা ভরে সেসব নিয়ে যায় পুলিশ। আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও তথ্য মিলেছে। এ বিষয়ে ইসিকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে আজকে। ইসি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে সেই কেন্দ্র পরিবর্তন সম্পর্কেও আবেদন জানানো হয়েছে। ইসি এ ব্যাপারে ভেবে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে।’
নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া অভিযোগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সূত্রাপুর থানার ওসি পরিবর্তন প্রসঙ্গে।
অভিযোগে বলা হয়, জনাব, উপযুক্ত বিষয়ে আপনাকে অবহিত করছি যে, ঢাকা-৬ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. মো. আব্দুল মান্নানের কর্মী সমর্থক ও জামায়াত ইসলামের অফিস হিসাবে ৭৩ নম্বর ভোট কেন্দ্র কসমোপলিটন স্কুল এন্ড কলেজে গত ৪ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে জানতে পারি যে, উক্ত ভোট কেন্দ্রটিতে জামায়াত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা বিপুল পরিমাণে নকল ব্যালট পেপার সিল এবং দেশীয় চাপাতি, রামদা, ক্রিকেট স্ট্যাম্প, হকি স্টিক, জিআই পাইপ ও আগ্নেয়াস্ত্র মজুদ করেছে। আমি উক্ত বিষয়ে সূত্রাপুর থানার ওসিকে অবহিত করলে তিনি নিজে সরেজমিনে গিয়ে উক্ত অস্ত্র জব্দ না করে, তা সরিয়ে ফেলতে সহযোগিতা করে। অতঃপর আমরা উক্ত বিষয়টি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্সকে অবহিত করলে আনুমানিক চার ঘণ্টা পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান পরিচালনা করে ভোট কেন্দ্রের বিভিন্ন রুম তল্লাশি করে ১৫২টি ক্রিকেট স্ট্যাম্প উদ্ধার করেন। উক্ত বিষয়ে প্রতীয়মান হয় যে, সূত্রাপুর থানার ওসি জামায়াত সমর্থিত। তাই পক্ষপাত দুষ্ট আচরণে নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
অতএব, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করার লক্ষ্যে উক্ত ওসি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সুমর্জি হয়।