1. admin@doeltv.com : admin :
একটি রাজনৈতিক দলকে খুশি করতে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামারকে আটক- তোয়াক্কা করা হয়নি সরকারি আদেশের - OnlineTV
শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন

একটি রাজনৈতিক দলকে খুশি করতে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামারকে আটক- তোয়াক্কা করা হয়নি সরকারি আদেশের

ডিবি নিউজ, ডেস্কঃ-
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৫৪ বার পঠিত
শেয়ার করুন

পুলিশ বাহিনীতে আবারও তৈরি হচ্ছে পতিত আওয়ামী সরকারের ফ্যাসিস্ট মনিরুল-হাবিব ও ডিবি হারুনের মতো পুলিশ কর্মকর্তা। সরকারি আদেশের তোয়াক্কা না করেই একটি রাজনৈতিক দলকে খুশী করতে রাতের আধাঁরে গ্রেফতার করা হয়েছে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এ´ অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন অডিটরিয়ামের পূর্বপাশের সরকারি কোয়ার্টার থেকে তাকে আটক করে ডিবি।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দেশের আইন অনুযায়ী কোন সরকারি কর্মকর্তাকে আটকের আগে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনিদিষ্ট অভিযোগে মামলা দায়ের, তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রাথমিক রিপোর্ট এবং সরকারের অনুমতির নেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু পুলিশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান, ২ জন অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিবি প্রধানের নির্দেশে রাতের আধাঁরে সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করা হয়েছে। যা আওয়ামী সরকারের সময় খুন, গুম, মিথ্যা ও ভূয়া মামলায় বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধের কথা মনে করিয়ে দেয়। আটকের ২৪ ঘন্টার মধ্যে তার পরিবারের সদস্যরা পুরো বিষয়টি নিয়ে অন্ধকারে রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো একটি গোয়েন্দার সংস্থার এক পাতার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এ´ অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় এখনও কোন মামলা হয়নি। এর পরেও বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ বিষয়টি এসবি প্রধান গোলাম রসুল, ইন্ডাস্টিয়াল পুলিশ প্রধান গাজী জসিম উদ্দিন, সিআইডি প্রধান ছিবগাত উল্লাহ এবং ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলামের সার্বিক মনিটরিং ও দিক নির্দেশনায় ডিবির কর্মকর্তারা সম্পন্ন করে। তারা বিষয়টি নিয়ে যেীথভাবে ক্জা করছেন। যা নিয়ে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক পুলিশ কর্মকর্তাই বলছেন যে, পুরোপুরি আইনের মাধ্যমে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করা হলে কোন প্রশ্ন তৈরি হতো না। এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে পুলিশের হারানো ইমেজ রক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠবে বলে ওই গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। মুক্তদির রশীদ নামে একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন যে, আগে যা তৈরি হতো কচুক্ষেতে এখন তা তৈরি হচ্ছে মালিবাগে। তাদের ভাষায় এটা নয়া বন্দোবস্ত। মুখে বলে গোলামী না আজাদী আমি দেখি গোলামের গোলামী। ২০১৮ রাতের ভোটের পরিকল্পনা হয় মালিবাগে। এবার হইতেছে নতুন রূপে সেখান থেকেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা ইনকিলাবকে বলেন, রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ সরকারী কার্যালয়ের একটি বঙ্গভবন। সেখানে বসে একজন সরকারী কর্মকর্তা যা খুশী তাই করা খুবই কঠিন। সেখানে সবার সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়। তাছাড়া যে কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর পুলিশের কথার বাইরে কথা বলা খুবই কঠিন বা অবাস্তব। এর আগে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অন্যায় না করেও হাজার হাজার নিরাপরাধ মানুষ নির্যাতন থেকে বাঁচতে পুলিশের শেখানো কথায় কথা বলেছেন যা ওপেন সিক্রেট। বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করার ক্ষেত্রেও এমনটি হয়েছে কিনা তা দ্রæত নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। অন্যতায় আগের মতোই পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি গ্রæপ বেপরোয়া হয়ে ফ্যাসিস্ট মনিরুল-হাবিব ও ডিবি হারুনের মতো অসহায় সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালাবে। যা দেশে-বিদেশে পুরো পুলিশ বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে। গত শনিবার রাতে জামায়াত আমিরের এক্স হ্যান্ডেলের একটি পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য। পরে এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে সেই পোস্ট সরিয়ে নেওয়া হয়। জামায়াত বিবৃতি দিয়ে জানায়, সাইবার হামলা করে অনাকাঙ্খিত পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে এবং জামায়াত আমিরের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের কতগুলো মৌলিক প্রশ্নঃ বঙ্গভবনে যেকোন কর্মকর্তা নিয়োগের সময়ে রাষ্ট্রের সকল বাহিনী তার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা চেক করে। এরপরেও একজন ‘সাইবার ক্রিমিনাল’ কী করে বঙ্গভবনের মত রাষ্ট্রের সবচেয়ে নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় চাকরিরত ছিলেন? নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ‘নিরপেক্ষ সরকারের আমলে’ একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার এক্স একাউন্ট হ্যাক করে বিতর্কিত পোস্ট দেয়ার মত গর্হিত ব্যাপারে বঙ্গভবন নিরব কেন, কেন তাদের কোন বিজ্ঞপ্তি নেই? তিনি যদি প্রকৃতপক্ষেই ‘সাইবার ক্রিমিনাল’ হয়ে থাকেন তাহলে বঙ্গভবনের পিসি বা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার মত কাঁচা কাজ কেন করলেন? যে ক্রাইম নিয়ে সারা দেশ তোলপাড়, অভিযুক্তের নাম, ঠিকানা, ছবি শুরুতেই প্রকাশিত হয়েছে তিনি কেন পালিয়ে না গিয়ে নিজের সরকারি বাসভবনে অবস্থান করলেন? একজন সরকারি কর্মকর্তাকে তার সরকারি বাসভবন থেকে এমনভাবে ‘অভিযান চালিয়ে’ উদ্ধার করা হলো যেভাবে জঙ্গি বা সন্ত্রাসীদের আটক করা হয়। এটা কি স্বাভাবিক না বিশেষ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ছিল? এই কর্মকর্তা এখন কোথায়, তাকে কি আদালতে হাজির করা হয়েছে? আইন অনুযায়ী ১২ ঘণ্টার মধ্যেই পরিবার ও আইনজীবীর সাথে যোগাযোগের বিধান রয়েছে। কিছুদিন পরে যদি প্রমাণিত হয় এই ঘটনার সাথে অভিযুক্ত ব্যক্তির কোন সম্পর্ক নেই, ততক্ষণে এই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত, পেশাগত ও সামাজিক যে মানহানি হয়ে যাবে তার কি হবে? এবং এটা প্রমাণিত হওয়ার পর নির্বাচনের পূর্বে এই অভিযানের কারণে যদি কেউ রাজনৈতিক সুবিধা পেয়ে থাকে সেটা পাল্টানো যাবে কি করে? সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোন কোন শীর্ষ কর্মকর্তা নির্বাচন কেন্দ্রিক কাউকে বিশেষ সুবিধা প্রদানের জন্য এই অভিযান পরিচালনার ঘটনার অবতারণা করে থাকতে পারেন কি?

Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2022